মোনালিসার চোখের রঙে মেতেছে মহাকুম্ভ!
প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলায় এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মোনালিসা ভোঁসলের চোখের রঙ হয়ে উঠেছে সামাজিক মাধ্যমের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয়। মালা বিক্রি করতে আসা এক সাধারণ নারী রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান তাঁর চোখের অদ্ভুত রঙের কারণে। তাঁর চোখের মণি, যা সাধারণ চোখের রঙ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, তা সবার নজর কেড়ে নিয়েছে। নীল বা সবুজ নয়, বরং মেটে সোনালি রঙের দুই চোখে ছিল হলদেটে ভাব, যা সাধারণত পৃথিবীজুড়ে বিরল।
তাঁর চোখের সৌন্দর্য নিয়ে সারা বিশ্বের অনেকেই আলোচনা শুরু করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে—এমন চোখের রঙ কেন হয়? কেন এমন বিরল চোখের রঙ কারও হয়? এবং দুনিয়ায় এমন চোখ ক’জনের রয়েছে?
কাদের হয় এমন চোখ?
মোনালিসার চোখের রঙ, যা সাধারণত ‘অ্যাম্বার’ নামে পরিচিত, বিশ্বের মধ্যে খুবই বিরল। ‘অ্যাম্বার’ এক ধরনের রজন, যার রঙ সোনালি বা হলুদ রঙের হতে পারে। এই রঙের চোখ সাধারণত খুব কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়। ভারতীয়দের মধ্যে এমন চোখের রঙ পাওয়া যায় না বললেই চলে, তবে মধ্য এশিয়ার কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন চোখের দেখা মিলতে পারে, যদিও তা খুবই বিরল। এছাড়া, স্পেন, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে এই ধরনের চোখের দেখা পাওয়া যেতে পারে।
মোনালিসার মতো একজন রাজস্থানের চিতৌরগড়ের এক গ্রাম থেকে উঠে আসা মহিলার মধ্যে এমন চোখের রঙ কিভাবে হয়ে উঠল, তা বেশ রহস্যময়। তবে বিজ্ঞান বলছে, এটি এক ধরনের জিনগত বৈশিষ্ট্য।
কেন হয় এমন চোখ?
বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে এমন চোখের রঙ রয়েছে, যা বিজ্ঞান বলছে, এটি মেলানিনের পরিমাণে তারতম্যের কারণে হয়। মেলানিন, যা চোখের মণিতে থাকে, তা চোখের রঙ নির্ধারণ করে। এই মেলানিন তৈরি হয় বিশেষ কোষ থেকে, যাকে মেলানোসাইটস বলা হয়। যখন মেলানিন বেশি থাকে, তখন চোখের রঙ গা dark ় বাদামি হয়। অন্যদিকে, মেলানিনের পরিমাণ কম থাকলে চোখের রঙ হালকা হয়ে যায়। যে সব মানুষের চোখের রঙ হালকা, তাদের মেলানিন কম থাকে, ফলে বাইরের আলো সহজেই চোখে প্রবাহিত হয় এবং প্রতিফলিত হয়ে চোখের রং হালকা মনে হয়।
তবে এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। মেলানিনের দুটি ভাগ আছে—ইউমেলানিন ও ফিয়োমেলানিন। ইউমেলানিন বেশি হলে চোখের রঙ হবে গা dark ় বাদামি, এবং ফিয়োমেলানিনের পরিমাণ বেশি হলে মণির রঙ লালচে হলুদ হয়ে যায়। মোনালিসার চোখের বিশেষ রঙ আসলে ফিয়োমেলানিনের পরিমাণের কারণে হয়েছে। এই ফিয়োমেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকলে চোখের মণির রঙ সোনালি বা হলদেটে হয়ে থাকে।
বিশ্বে এমন চোখ কতজনের আছে?
গবেষকরা বলছেন, পৃথিবীতে মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ এমন বিরল চোখের অধিকারী। এই সংখ্যা অত্যন্ত কম, যা বিশেষভাবে চোখে পড়ে। ‘অ্যাম্বার’ চোখের রঙ অন্য চোখের তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। মোনালিসার চোখের মতো এমন চোখ একেবারে বিশেষ ধরনের এবং বৈজ্ঞানিকভাবে এটিকে এক বিরল প্রতিভা বলা যেতে পারে।
তবে পৃথিবীজুড়ে এরকম চোখের রঙ কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক জিনগত বৈশিষ্ট্য, যা কিছু মানুষের মধ্যে বিরলভাবে দেখা দেয়। এটি সবার কাছে এক অদ্ভুত এবং রহস্যময় রূপে ধরা দেয়, বিশেষ করে যখন এর মালিক একজন সাধারণ ব্যক্তি হয়ে থাকে, যিনি এমন একটি দৃষ্টি আকর্ষণকারী বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে যান।
মোনালিসার চোখের রঙ এখন যেন এক মহাকুম্ভের আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে, যেখানে শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে আছে সেই মায়াবী চোখের দিকে।
ইডেনে খেলেননি শামি, চেন্নাইয়ে কি খেলবেন? সতীর্থ আরশদীপের মন্তব্যে ধোঁয়াশা