জগ ছুড়ে ‘খ্যাতি’! আরাবুলের গাড়িতে পাথরের চাঁই!
দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে উত্তেজনা ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার পোলেরহাট থানা এলাকায়। ভাঙড়ের বিতর্কিত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের গাড়িতে পাথরের আঘাতে ভাঙল কাচ। অভিযোগ, দলীয় সংঘর্ষের জেরে এই হামলা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
বুধবার সকালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন করতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আরাবুল ইসলাম। এই কর্মসূচি ঘিরেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, আরাবুলের অনুগামীরা ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার সমর্থকদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এবং এই উত্তেজনার মধ্যে আরাবুলের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়।
গাড়ি ভাঙচুর ও পথ অবরোধ
পাথরের আঘাতে আরাবুলের গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে যায়। এরপর রাস্তা আটকে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুরো ঘটনার জন্য শওকত মোল্লার সমর্থকরা আরাবুলকেই দোষারোপ করছেন। তবে আরাবুল এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, “আজ দলের প্রতিষ্ঠা দিবস। এসব নিয়ে কিছু বলব না। যে যা পারে, করুক।”
অতীতের বিতর্কিত নেতা
২০১১ সালে তৃণমূল সরকারের শাসনকালে ভাঙড়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন আরাবুল। সেই সময় কলেজের ওয়েবকুটার নির্বাচন নিয়ে ভূগোলের শিক্ষিকা দেবযানী দে-র সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, বচসার সময় আরাবুল প্লাস্টিকের জগ ছুড়ে মারেন, যাতে দেবযানীর থুতনিতে আঘাত লাগে।
বর্তমানে দলের অন্দরেই কোণঠাসা এই নেতা সম্প্রতি অপরাধের মামলায় জেল খেটে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। যদিও দলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদে যোগদান করতে গিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর জন্য বরাদ্দ ঘরটি আর নেই। আদালতের নির্দেশে তিনি পঞ্চায়েত অফিসে সপ্তাহে দু’দিন যাওয়ার অনুমতি পান।
দলের মধ্যে বিভাজন
ভাঙড়ের রাজনীতিতে এখন শওকত মোল্লার প্রভাব স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠা দিবসের এই উত্তেজনায় শওকত সরাসরি আরাবুলকেই দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ভাঙড় বিধানসভায় ১৩টি অঞ্চলে দলের পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছিল। গরিব মানুষদের শীতবস্ত্র দেওয়া হচ্ছিল। শুনলাম, এক জায়গায় পতাকা তোলার পরও আবার সেখানে পতাকা উত্তোলন করতে গিয়েছেন উনি (আরাবুল)।”
শওকতের অভিযোগ, “উনি এখন দলের কোনও পদে নেই। পরিস্থিতি অশান্ত করার জন্যই পরিকল্পিত ভাবে এই কাজ করেছেন। বিষয়টি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনব।”
দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভাঙড়ের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। তবে এই সংঘর্ষ ও হামলা শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কলহকেই সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও শওকত দাবি করেছেন, “ভাঙড়ে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু কেন উনি এই ধরনের কাজ করলেন, জানি না।”
বর্তমান পরিস্থিতি
গোটা ঘটনাটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আনা হবে বলে জানিয়েছেন শওকত মোল্লা। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে এমন একটি ঘটনা দলীয় ঐক্যের প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতি যে আরও জটিল হতে পারে, তা নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় নেতৃত্ব।
উপসংহার
দলীয় পতাকা উত্তোলন থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা শুধু ভাঙড় নয়, পুরো তৃণমূল নেতৃত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আরাবুল ইসলাম ও শওকত মোল্লার এই দ্বন্দ্ব কীভাবে সমাধান হবে, তা সময়ই বলবে। তবে বছরের প্রথম দিনেই এমন উত্তেজনা তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।