দ্বিতীয় বার বিশ্ব র্যাপিড দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়লেন হাম্পি!
ভারতের মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টার কোনেরু হাম্পি বিশ্ব র্যাপিড দাবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। গত ২০১৯ সালে প্রথমবার এই খেতাব জিতেছিলেন হাম্পি, আর ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার বিশ্ব র্যাপিড দাবায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন তিনি। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার শেষ রাউন্ডে আইরিন সুকন্দরকে হারিয়ে খেতাব নিশ্চিত করেন ৩৭ বছর বয়সী হাম্পি।
গত বছরের হার ও প্রতিশোধ
গত বছর মাত্র একধাপ দূরে দাঁড়িয়ে রূপো দিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল হাম্পিকে। রাশিয়ার আনাস্তাসিয়া বোডনারুকের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যান তিনি। তবে, তার পরেও হাম্পি হাল ছাড়েননি এবং আবার উঠে দাঁড়িয়ে এই বছর বিশ্ব র্যাপিড দাবার শিরোপা জিতলেন। ২০১৯ সালে প্রথমবার খেতাব জিতলেও, এবারের জয় তার কাছে আরও বেশি অর্থবহ।
ভারতীয় দাবায় ইতিহাস
হাম্পির দ্বিতীয় বিশ্ব র্যাপিড দাবার খেতাব ভারতের জন্য এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা দাবাড়ু হিসেবে একাধিক বার এই খেতাব জিতেছেন। তার আগে, শুধুমাত্র চিনের জু ওয়েনজুনই এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। ভারতীয় দাবার জন্য এটি একটি গর্বের মুহূর্ত, এবং হাম্পির এই জয় দেশের দাবা জগতকে আরও উজ্জীবিত করেছে।
প্রতিযোগিতার শেষ রাউন্ডের তাৎপর্য
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় শেষ রাউন্ডে হাম্পি কালো ঘুঁটি নিয়ে আইরিন সুকন্দরকে পরাজিত করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়েই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ উন্মোচিত হয়। ১১ রাউন্ডের লড়াই শেষে তার সংগ্রহ ছিল ৮.৫ পয়েন্ট। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ব র্যাপিড দাবায় নিজের দ্বিতীয় খেতাব নিশ্চিত করেন, যা ভারতের দাবার ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক।
হাম্পির আগের অভিজ্ঞতা
২০১২ সালে প্রথমবার বিশ্ব র্যাপিড দাবায় অংশ নেন হাম্পি। সেবার তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। তবে, চূড়ান্ত খেতাবের জন্য তাকে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ২০১৯ সালে তার প্রথম বিশ্ব র্যাপিড দাবার খেতাব জয়, আর এবার দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, তিনি ভারতীয় দাবার মহীয়ানদের মধ্যে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন।
ভারতীয় দাবার জয়যাত্রা
এ বছর ভারতের ১৮ বছরের তরুণ দাবাড়ু ডি গুকেশ ক্লাসিক দাবায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, হাম্পির এই জয় ভারতীয় দাবার জন্য আরও এক বড় সাফল্য। এই জয় ভারতের দাবার বিশ্বের প্রতি শক্তিশালী অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে। হাম্পির জয়ের সঙ্গে ভারতের দাবার জয়ের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকল এবং তা দেশের অন্যান্য দাবাড়ুদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠল।
ভবিষ্যতের দিক
হাম্পি এই জয় দিয়ে শুধু নিজের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, বরং তিনি আগামী প্রজন্মের দাবাড়ুদের জন্য একটি বড় উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তার কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং মনোযোগের ফলস্বরূপ তিনি আজ আন্তর্জাতিক দাবা মহলে অন্যতম সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে হাম্পি আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন বলে দাবা বিশ্ব তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
ভারতীয় দাবায় এই অভূতপূর্ব সাফল্য দেশের তরুণ দাবাড়ুদের উৎসাহিত করবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। হাম্পির এই দ্বিতীয় বিশ্ব র্যাপিড দাবার খেতাব জয় শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি ভারতীয় দাবার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।