রাজস্থানের পর মধ্যপ্রদেশে ফের বিপদ!
রাজস্থানের কোটপুতলিতে ৭০০ ফুট গভীর কুয়োয় পড়ে যাওয়া তিন বছরের শিশু চেতনা এখনও উদ্ধার হয়নি। তার মধ্যেই মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলায় ঘটল আরেক মর্মান্তিক ঘটনা। শনিবার সন্ধ্যায় গুনার রাঘোগড়ের পিপলিয়া গ্রামে বাড়ির কাছের একটি কুয়োয় পা ফস্কে পড়ে যায় বছর দশেকের সুমিত। বর্তমানে প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দল তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি খোলা কুয়োর ধারে খেলছিল সুমিত। হঠাৎ তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবার খোঁজ শুরু করে। তখন কুয়োর ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ শোনেন তাঁরা। সুমিতের কুয়োয় পড়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তবে গভীর কুয়োর কারণে প্রথম পর্যায়ের চেষ্টাগুলি ব্যর্থ হয়।
উদ্ধারকাজে ব্যবস্থাপনা
সুমিতকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গুনার জেলা প্রশাসক সত্যেন্দ্র সিং এবং রাঘোগড়ের বিধায়ক জয়বর্ধন সিং। পরে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-কে ডাকা হয়। জানা গিয়েছে, সুমিত কুয়োর ৪০ ফুট গভীরে আটকে রয়েছে। উদ্ধারকারী দল কুয়োর সমান্তরালে ২৫ ফুট গভীর একটি গর্ত খুঁড়ে বালককে উদ্ধার করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
সুমিতের জীবনের জন্য লড়াই
বালকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দল। তাকে বাঁচিয়ে রাখতে কুয়োর ভেতর অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছে, সুমিতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে সবরকম সাহায্য করছেন।
পরিবারের আকুতি
সুমিতের পরিবার পুরো ঘটনায় ভেঙে পড়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, খোলা কুয়োটি অনেক দিন ধরেই এমন অবস্থায় পড়ে ছিল। প্রশাসনের উদাসীনতার জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। পরিবারের এক সদস্য জানান, “আমরা কুয়োটি ঢাকনার ব্যবস্থা করার জন্য অনেকবার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমার সন্তানের জীবন এখন সবার হাতে।”
রাজস্থানের ঘটনায় পুনরাবৃত্তি?
রাজস্থানের কোটপুতলির ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এই ঘটনা। সেখানে তিন বছরের শিশু চেতনা ৭০০ ফুট গভীর কুয়োয় পড়ে গিয়েছিল। ঘটনার এক সপ্তাহ পরেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি। উদ্ধারকারীরা সেখানে কুয়োর সমান্তরালে ১৭০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। তবে সময় যত এগোচ্ছে, আশঙ্কা ততই বাড়ছে।
উদ্বেগ বাড়ছে দেশের নানা প্রান্তে
ভারতে খোলা কুয়োর কারণে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। শিশুরা খেলার সময় এই বিপজ্জনক জায়গাগুলিতে পড়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র প্রশাসনিক গাফিলতির পরিচয় নয়, বরং সমাজের অসচেতনতারও উদাহরণ।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনকে আরও সচেতন হতে হবে। দেশের প্রতিটি গ্রামে এবং শহরে খোলা কুয়োগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলি বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে, স্থানীয়দের এ বিষয়ে আরও সচেতন করতে হবে যাতে তাঁরা এই বিপজ্জনক জায়গাগুলিকে এড়িয়ে চলেন।
উপসংহার
মধ্যপ্রদেশের এই ঘটনা আবারও দেশের সামনে এক বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—খোলা কুয়োগুলির মতো বিপজ্জনক স্থানগুলিকে সুরক্ষিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? সুমিত এবং তার মতো অন্যান্য শিশুদের জীবন এভাবে ঝুঁকির মুখে পড়া কখনওই কাম্য নয়। প্রশাসনের উচিত এই বিষয়ে দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
সুমিতকে সুস্থভাবে উদ্ধার করা হবে এই আশায় গোটা গ্রাম অপেক্ষা করছে। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এখনই সক্রিয় হওয়া অত্যন্ত জরুরি।