প্রস্রাবের গন্ধ হারিয়ে গেছে, তাই ওড়িশার রাস্তা ভুলে গেছে বাঘিনি জ়িনত!

প্রস্রাবের গন্ধ হারিয়ে গেছে বাঘিনি জ়িনতের ঘরে ফেরা যেন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ দিন ধরে বন দফতর ও বিশেষজ্ঞদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের গন্ধের সাহায্যে নিজের…

December 28, 2024
1 min read

প্রস্রাবের গন্ধ হারিয়ে গেছে

বাঘিনি জ়িনতের ঘরে ফেরা যেন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ দিন ধরে বন দফতর ও বিশেষজ্ঞদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের গন্ধের সাহায্যে নিজের পথ চিনে নেয় বন্যপ্রাণীরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই গন্ধ বাতাসে মিশে গেলে পথ হারিয়ে ফেলে তারা। জ়িনতের ক্ষেত্রেও হয়তো তেমনটাই ঘটেছে।

বাঘিনির পথভ্রষ্টতা

জ়িনতকে গত ১৫ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের তাডোবা-আন্ধারি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে ওড়িশার সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পর্যবেক্ষণের পর ২৪ নভেম্বর তাকে রেডিয়ো কলার পরিয়ে সিমলিপালের জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তাহীন বোধ করায় জ়িনত সিমলিপাল ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে পাড়ি জমায়।

কয়েক দিনের মধ্যে সে ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া রেঞ্জ হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকায় প্রবেশ করে। এরপর পুরুলিয়ার বিভিন্ন জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। বন দফতরের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাগে আনা সম্ভব হয়নি।

প্রস্রাবের গন্ধের গুরুত্ব

বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক বিশ্বরঞ্জন ধুয়া জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণীরা যেসব পথ দিয়ে হাঁটে, সেখানে প্রস্রাব করে নিজের উপস্থিতি চিহ্নিত করে। ভবিষ্যতে যদি নিরাপত্তার কারণে ফিরে আসতে হয়, তবে সেই গন্ধ অনুসরণ করে তারা নিজের জায়গায় ফিরে যায়।

বিশেষজ্ঞের মতে, জ়িনতও হয়তো এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই গন্ধ মিলিয়ে যাওয়ায় সে নিজের পুরনো পথ চিনতে পারছে না। এ কারণেই ওড়িশায় ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছে না জ়িনত।

বন দফতরের প্রচেষ্টা

জ়িনতকে ধরার জন্য বন দফতর প্রথমে খাঁচার সাহায্যে চেষ্টা করেছিল। তাতে সফল না হওয়ায়, বৃহস্পতিবার হুলা পার্টি ব্যবহার করে জাল দিয়ে তাকে ধরার পরিকল্পনা করা হয়। তবে সেখানেও ব্যর্থতা আসে।

বৃহস্পতিবার রাতেই বাঘিনি বান্দোয়ানের ভাঁড়ারি পাহাড় ছেড়ে পুরুলিয়ার পাইসাগোড়া জঙ্গলে চলে যায়। শুক্রবার সকালে নতুন করে তাকে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই প্রচেষ্টাও বিফল হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যৎ

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ়িনতের ওড়িশায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন কমছে। নতুন পরিবেশে সে নিরাপত্তার অভাবে এক জঙ্গল থেকে আরেক জঙ্গলে ছুটে বেড়াচ্ছে। এই ধরণের পরিস্থিতি বন্যপ্রাণীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। খাবারের অভাব ও মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তাকে আরও অসহায় করে তুলছে।

উপসংহার

জ়িনতকে তার পুরনো আশ্রয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বন দফতর ও বিশেষজ্ঞদের আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। একদিকে, তাকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে হবে। অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

জ়িনতের মতো ঘটনাগুলি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বনাঞ্চলের সুরক্ষা ও বন্যপ্রাণীর বাসস্থান রক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এমন ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *