পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা ফিরবে?
পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা পুনরায় চালু করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশিকা জারি করলেও শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, এই প্রথা ২০১৯ সালেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল, তবে তা এখনও কার্যকর হয়নি। তাই নতুন করে এই নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন শিক্ষকরা।
পাশ-ফেল প্রথার উদ্দেশ্য ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পঞ্চম বা অষ্টম শ্রেণিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বিশেষ নজরদারিতে রেখে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হবে। পুনরায় পরীক্ষায় পাশ করতে না পারলে তাদের আগের শ্রেণিতেই রেখে দেওয়া হবে। তবে শিক্ষকরা মনে করছেন, এই নিয়ম কার্যকর করতে যে ধরনের পরিকাঠামো এবং উদ্যোগ প্রয়োজন, তা অধিকাংশ স্কুলে নেই।
একাধিক শিক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন, এক বছরের পড়াশোনার পরেও যারা শূন্য বা দুই-এর বেশি নম্বর পেতে পারে না, তাদের মাত্র দুই মাসে প্রশিক্ষণ দিয়ে কীভাবে পরবর্তী পরীক্ষায় পাশ করানো সম্ভব? তারা আরও বলেন, যদি কোনওভাবে শিক্ষার্থী পাশ করেও যায়, তবু পরবর্তী শ্রেণির পড়াশোনায় দুই মাসের দেরি তার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে।
বিশেষ প্রশিক্ষণের সমস্যা
পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রশিক্ষণ কোথায় এবং কীভাবে দেওয়া হবে, তা এখনও অস্পষ্ট। বর্তমানে অধিকাংশ স্কুলে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। বিশেষ ক্লাসের জন্য আলাদা শিক্ষক বা ক্লাসঘরেরও ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের নিজের সময়ের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর মতে, “যে পড়ুয়া শূন্য নম্বর পেয়েছে, তাকে মাত্র দুই মাসে পাশ করানো অসম্ভব। স্কুলগুলি কি এর দায় নেবে? তার আগে দরকার পরিকাঠামোর উন্নয়ন।”
পাশ-ফেল প্রথার সুফল
যদিও শিক্ষকদের একাংশ মনে করেন, সঠিকভাবে পাশ-ফেল প্রথা কার্যকর করা গেলে স্কুলছুটের সমস্যা অনেকটাই কমানো যাবে। বর্তমানে পরীক্ষায় ফেল করার ভীতি না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যায় না, বা স্কুলে গেলেও পড়াশোনায় মনোযোগ দেয় না। পরীক্ষায় ফেল করার ভয় থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী হবে বলে মনে করেন তারা।
শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যা
শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পোর্টাল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের অভাবও বড় সমস্যা। শিক্ষকদের বক্তব্য, বাংলার শিক্ষা পোর্টালে এখনও এই পরিবর্তনের কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি। নীতির কার্যকরতা নিশ্চিত করতে হলে পোর্টালের উন্নয়ন এবং নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবর্তন অপরিহার্য।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, ‘‘এই বিষয়ে শিক্ষা দফতরে আলোচনা করে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে। তাঁর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’
শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ
পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা পুনরায় চালু করার লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন হলেও এর সঠিক বাস্তবায়নই হবে আসল চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোতে প্রাসঙ্গিক পরিবর্তন আনা না হলে, এই নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। এর পাশাপাশি, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি।