সিরিয়ার রাজনৈতিক সংকট: ক্ষমতা হস্তান্তরের বার্তা, বিদ্রোহীদের দখলে দামাস্কাস

সিরিয়ার রাজনৈতিক সংকট সিরিয়ায় ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের মধ্যে নতুন মোড়। বিদ্রোহীদের দখলে রাজধানী দামাস্কাসসহ একের পর এক শহর। এমন পরিস্থিতিতে, সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ গাজি জালালি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতির ঘোষণা করেছেন।…

December 8, 2024
1 min read

সিরিয়ার রাজনৈতিক সংকট

সিরিয়ায় ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের মধ্যে নতুন মোড়। বিদ্রোহীদের দখলে রাজধানী দামাস্কাসসহ একের পর এক শহর। এমন পরিস্থিতিতে, সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ গাজি জালালি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতির ঘোষণা করেছেন। বিদ্রোহীদের সামনে প্রায় পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে সরকার। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ইতোমধ্যে দেশ ছাড়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিদ্রোহীদের অগ্রগতি ও রাজধানীর পতন

সিরিয়ার পরিস্থিতি গত কয়েক দিনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির আক্রমণে সিরিয়ার একাধিক শহর দ্রুত তাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। শনিবার রাতে রাজধানী দামাস্কাস ঘিরে ফেলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি। রবিবার সকালেই রাজধানীতে ঢুকে পড়ে এবং সরকারি ভবনগুলোর দখল নেয় তারা। বিদ্রোহীদের এই অগ্রগতির মুখে সিরিয়ার সেনাবাহিনী প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এবং তাদের সহযোগী জইশ আল-ইজ্জা যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকার দ্রুতই দুর্বল হয়ে পড়ে। বিদ্রোহীরা রাজধানী দখল করতেই প্রেসিডেন্ট আসাদ বেপাত্তা হয়ে যান। সিরিয়ার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, আসাদ দেশ ছেড়ে বিমানে উঠে পড়েছেন। তবে তার গন্তব্য সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী জালালির শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের বার্তা

প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে, প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ গাজি জালালি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি একটি ভিডিওবার্তায় জানান, “আমি আমার বাড়িতেই আছি। আমি কোথাও পালাইনি। কারণ এটা আমার দেশ। আমি চাই, ক্ষমতা হস্তান্তর শান্তিপূর্ণভাবে হোক।” তার কথায় স্পষ্ট, তিনি যুদ্ধের পথ বেছে না নিয়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোতে চান।

জালালি তার বার্তায় জনগণকে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট না করার আহ্বান জানান। তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রতিদিনের মতো তিনি তার অফিসে যাবেন এবং নিয়মিত কাজকর্ম চালিয়ে যাবেন। তবে রাজধানী যখন বিদ্রোহীদের দখলে, তখন তার এই বার্তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের ইতিহাস ও বর্তমান সংকট

২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শিকড় অনেক গভীরে। গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে আমেরিকা এবং পশ্চিমা শক্তিগুলি প্রথমে প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। পরবর্তী সময়ে, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান সিরিয়ার সংকটকে আরও জটিল করে তোলে। আইএসের উত্থান ঠেকাতে নেটো বাহিনীও সরাসরি সিরিয়ায় হামলা চালায়।

আন্তর্জাতিক শক্তির সমর্থন থাকা সত্ত্বেও আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির অবস্থান শক্তিশালী হতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহীরা আরও সংগঠিত হয়ে রাজধানীর দিকে অগ্রসর হয়। তাদের সাফল্যে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

ক্ষমতা হস্তান্তরের ভবিষ্যৎ

সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি বিষয়টি কীভাবে গ্রহণ করবে তা গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্রোহী নেতারা ইতোমধ্যে দাবি করেছে, তারা দেশের পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে।

বিদ্রোহীদের একাংশের চরমপন্থী মনোভাব এবং অন্য অংশের গণতন্ত্রপন্থী উদ্দেশ্য—এই দ্বৈত অবস্থানের মধ্যে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলিও এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিদ্রোহীদের দখলে দেশ, পাল্টাবে সিরিয়ার চিত্র?

প্রেসিডেন্ট আসাদের দেশত্যাগ এবং বিদ্রোহীদের আগ্রাসন সিরিয়ার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী জালালির শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রচেষ্টা সিরিয়ার ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনে কতটা কার্যকর হবে তা দেখার বিষয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য চরম উদ্বেগের। বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *