চা খেতে বেরিয়ে গাড়ির ধাক্কা, দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে থেকে মৃত্যু

চা খেতে বেরিয়ে গাড়ির ধাক্কা নিউ টাউনে আবারও এক বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন এক পথচারী। বৃহস্পতিবার ভোরে বিধাননগরের আনন্দপল্লির কাছে, বাগজোলা খাল লাগোয়া রাস্তায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্থানীয়…

November 22, 2024
0 min read

চা খেতে বেরিয়ে গাড়ির ধাক্কা

নিউ টাউনে আবারও এক বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন এক পথচারী। বৃহস্পতিবার ভোরে বিধাননগরের আনন্দপল্লির কাছে, বাগজোলা খাল লাগোয়া রাস্তায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা সন্তোষ ব্রহ্ম (৫০) চা খেতে বেরিয়ে গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর সন্তোষ দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে ছিলেন, কিন্তু কেউ তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর গাড়িটি দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, গাড়ির চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং তার খোঁজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাড়িটি প্রথমে একটি মোটরবাইককে ধাক্কা মারে। বাইকচালক গাড়িটিকে তাড়া করার পর, সেটি সন্তোষকে ধাক্কা মারে এবং পালিয়ে যায়। মৃতের স্ত্রী মিনতি ব্রহ্ম বলেন, ‘‘আমার স্বামী মাটি কাটার কাজ করতেন। প্রতিদিন ভোরে পাড়ার দোকানে চা খেতে যেতেন। এ দিনও গিয়েছিলেন। তার পরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।’’

ঘটনাটি ঘটার পর, সন্তোষের এক প্রতিবেশী প্রকাশ বিশ্বাস জানিয়েছেন যে, দুর্ঘটনার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি দেখেন, সন্তোষ রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন এবং লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। প্রকাশের দাবি, ‘‘আমি অনেকবার অনুরোধ করেছি, সবার কাছে সাহায্য চেয়েছি, কিন্তু পুলিশি হয়রানির অজুহাতে কেউ এগিয়ে আসেনি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘যদি সেই সময় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো, হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন।’’

এদিকে, নিউ টাউনে গাড়ির বেপরোয়া গতি এবং দুর্ঘটনা একটি পরিচিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব বাংলা সরণি সহ নানা জায়গায় গাড়ির চালকরা নিয়ম মানতে রাজি নয়। যদিও বাগজোলা খাল লাগোয়া ওই রাস্তায় এমন দুর্ঘটনা আগে ঘটেনি, তবে গভীর রাতে সেখানে গাড়ি ও বাইক চালকদের বেপরোয়া গতির বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। তাঁরা দাবি করেছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা কমানোর জন্য সেখানে স্পিড ব্রেকার বসানো অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয়রা বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, ভবিষ্যতে আরও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনার পর, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক অস্থিরতা বিরাজ করছে, কারণ এই ধরনের অমানবিক পরিস্থিতি তাদের কমিউনিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *