দিল্লির বায়ুদূষণ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক
দিল্লির বায়ুদূষণ কিছুটা কমেছে, তবে এখনও রাজধানীর বাতাসের গুণমান অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি এবং তার আশেপাশের এলাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৩৭৯-এ নেমে এসেছে। এটি পূর্ববর্তী সপ্তাহের ভয়াবহ ৪৫০ পেরোনো মানের তুলনায় কিছুটা উন্নত। বুধবার এই সূচক ৪২২ ছিল।
দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি
সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (CPCB)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাতাসের গুণমান সূচকের মান ৩০১-৪০০ থাকলে তা ‘খুব খারাপ’ এবং ৪০১-৫০০ হলে তা ‘অতি ভয়ানক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। যদিও সামগ্রিক দূষণের মান কিছুটা উন্নত হয়েছে, কিন্তু শহরের কিছু এলাকায় এখনও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জাহাঙ্গিরপুরী এবং ওয়াজিরপুরের মতো অঞ্চলে AQI ৪৩৭ এবং বাওয়ানা ও অশোক বিহারে এটি ৪১৫-এর উপরে রয়েছে।
ধোঁয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা অনেকাংশে কমে গেছে। এর ফলে অন্তত ৯৭টি ফ্লাইট বিলম্বিত এবং তিনটি বাতিল করতে হয়েছে। রাজধানীর আকাশ এখনও ধোঁয়ায় ঢাকা।
দূষণ মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ
গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP) চতুর্থ স্তরে চালু করা হয়েছে। এটি সর্বোচ্চ স্তরের দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
- সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, আদালতকে না জানিয়ে এই ব্যবস্থা শিথিল করা যাবে না।
- স্কুল ও কলেজে ক্লাস এখন অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের পঠনপাঠনও অনলাইনে স্থানান্তরিত হয়েছে।
- নয়ডা ও গুরুগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
দূষণ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী গোপাল রাই।
দূষণের কারণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়
দিল্লির বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হল যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণ কাজ থেকে উত্থিত ধূলিকণা এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে কৃষি জমিতে খড় পোড়ানো।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের পরিবর্তে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার এবং গাছপালা রোপণ দূষণ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
দূষণের মাত্রা আপাতত কমলেও, এটি দীর্ঘমেয়াদী একটি সমস্যা। ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তি ও পরিবেশ-বান্ধব নীতির প্রয়োগের মাধ্যমে দিল্লিকে ধোঁয়াশার শহর থেকে মুক্ত করা সম্ভব।