আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (আইএসএস) এবং স্পেস স্যুটগুলির উপর বয়সের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন আইএসএসের কাঠামোয় ফাটল ধরেছে, তেমনি অন্যদিকে স্পেস স্যুটেও দেখা দিচ্ছে যান্ত্রিক সমস্যা। এ পরিস্থিতি মহাকাশচারীদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে, এবং তারা নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
নাসার মহাকাশচারী ম্যাথু ডমিনিক সম্প্রতি ৮ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে এই সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ দশকব্যাপী ব্যবহারে আইএসএস এবং স্পেস স্যুটগুলিতে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে, “এক্সাভেহিক্যুলার মোবালিটি ইউনিট” (ইএমইউ) নামে পরিচিত স্পেস স্যুটের হার্ডওয়্যারে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। মহাকাশে চলাচলের জন্য এই স্যুটগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাদের বয়সের কারণে সেগুলি আর আগের মতো কার্যকরী নেই।
আইএসএসের ট্রান্সফার টানেলে চিড় ধরেছে, যা ‘এয়ার লিক’ বা বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যা সৃষ্টি করছে। ২০২১ সালে প্রথমবার এ ধরনের সমস্যা ধরা পড়েছিল, এবং বর্তমানে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নাসা এবং রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমস মিলে এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে, তবে কাঠামো মেরামত করা খুব সহজ নয়।
স্পেস স্যুটগুলিও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অধিক ব্যবহারের কারণে এগুলির কাজকর্মে সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা মহাকাশচারীদের সুরক্ষাকে হুমকির মধ্যে ফেলছে। ম্যাথু ডমিনিক বলেছেন, “আমাদের স্পেস স্যুটগুলি ‘স্প্রিং চিকেন’ এর মতো নয়। এগুলির হার্ডওয়্যারে সমস্যা ধরা পড়ছে।”
তবে, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন এবং স্পেস স্যুটের যান্ত্রিক ত্রুটি সত্ত্বেও, মহাকাশচারীরা নিশ্চিত করেছেন যে, মহাকাশ স্টেশন এখনও নিরাপদ এবং প্রয়োজনীয় গবেষণামূলক কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম। ডমিনিক জানিয়েছেন, “আইএসএসে আরাম করার জায়গা নয়, এটি একমাত্র স্মার্ট ব্যক্তিদের কাজ করার জায়গা।”
আইএসএসের কাঠামো এবং স্পেস স্যুটের অবস্থা যে মহাকাশচারীদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে, তা সবার সামনে চলে এসেছে। তবে, আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত আইএসএস মহাশূন্যে নিজের কাজ চালিয়ে যাবে। কিন্তু এর আগে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে নাসাকে, বিশেষত যন্ত্রাংশের অভাব এবং সরবরাহের সমস্যা। একাধিক সমস্যা সত্ত্বেও নাসা চেষ্টা করছে যাতে আইএসএস এবং মহাকাশে কাজ করা স্পেস স্যুটগুলি সঠিকভাবে কার্যকরী থাকে, এবং মহাকাশচারীরা নিরাপদে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।