মহম্মদ সেলিমের অভিযোগ
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ তাঁর অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। দাবি করা হয়েছে, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে উস্কানিমূলক পোস্ট করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে উত্তেজনা এবং পাল্টা কটাক্ষ।
পুলিশের অভিযোগ এবং ‘এক্স’ কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য অনুযায়ী, এক্স কর্তৃপক্ষ তাঁকে ইমেল করে জানিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাঁর অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে নালিশ করেছে। পুলিশ দাবি করেছে, সেলিমের হ্যান্ডল থেকে উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। তবে এক্স কর্তৃপক্ষ তাঁদের তদন্তে কোনো ত্রুটি খুঁজে পায়নি এবং সেলিমকে আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছে।
সেলিম এই ঘটনার সঙ্গে রাজ্য এবং কেন্দ্রের শাসকদলগুলির ভূমিকার তুলনা টেনে বলেন, “দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদী যা করছেন, উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ যা করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশও সেই পথেই হাঁটছে। এভাবে বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে।”
আরজি কর মামলার প্রেক্ষাপট
ঘটনার সূত্রপাত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনার প্রেক্ষিতে। সেখানে এক নির্যাতিতার আত্মহত্যার খবর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেলিম দাবি করেন, তিনি কখনও বলেননি পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চেয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে এবং তাঁকে নিশানা বানানোর চেষ্টা করছে।
এই মামলার সঙ্গে যুক্ত থেকে সিপিএমের যুব নেতা কলতান দাশগুপ্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। একই মামলার সূত্রে সেলিমের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি, সঞ্জয় ঘোষ ওরফে বাপ্পার মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে ইলেক্ট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানা।
তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ
সেলিমের অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কটাক্ষ করেছে। রাজ্যের শাসক দলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “উনি উস্কানি ছড়ালে পুলিশ কি চুপ করে বসে থাকবে? আইন তার নিজের পথে চলবে।” তৃণমূলের মতে, সিপিএম রাজ্য রাজনীতিতে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে এবং এসব অভিযোগ কেবলমাত্র আলোচনায় থাকার মরিয়া চেষ্টা।
সিপিএম-তৃণমূল-বিজেপি সম্পর্কের দিক
সেলিম তাঁর বক্তব্যে রাজ্যে তৃণমূল সরকারের ভূমিকার সঙ্গে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, দুই পক্ষই একই কৌশলে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের মন্তব্যে রাজ্যে সিপিএম-বিজেপি সমঝোতার যে অভিযোগ তৃণমূল তুলে থাকে, তা আরও উসকে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
এই ঘটনা কেবল একটি মামলার ইস্যু নয়, বরং এটি রাজ্য রাজনীতিতে দলগুলির অবস্থান এবং বিরোধিতার পদ্ধতির প্রতিফলন। তৃণমূল এবং সিপিএমের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা নতুন করে প্রকাশ পেলেও সিপিএম-বিজেপি সম্পর্ক নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।