৬ ফুট ৫ ইঞ্চির ‘ভাইকিং’ হালান্ডেই থামল ব্রাজ়িল!
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজ়িলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দিলেন একাই। আর্লিং ব্রাউট হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির এই স্ট্রাইকার যেন সত্যিই ভাইকিং যোদ্ধার মতোই ব্রাজ়িলের স্বপ্ন ভেঙে দিলেন।
৭৯ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে কোনও গোল হয়নি। কিন্তু শেষ ১১ মিনিটেই ছবিটা বদলে দেন হালান্ড। প্রথমে দুরন্ত হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন। লম্বা উচ্চতার সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্রাজ়িলের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর আরও একবার নিজের স্বভাবসিদ্ধ ফিনিশিংয়ে তিন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বাঁ পায়ের নিচু শটে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন।
দুই গোলের পরেও তাঁর মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। যেন এমন পারফরম্যান্স তাঁর কাছে স্বাভাবিক। ম্যাচ শেষে অবশ্য সতীর্থ ও সমর্থকদের সঙ্গে নরওয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রো’ উদ্যাপনে যোগ দেন তিনি।
ম্যাচের পর হালান্ড বলেন, “আমি জানি, খুব বেশি সুযোগ পাব না। কিন্তু এক-দুটি সুযোগ পেলেই গোল করার চেষ্টা করি। কী ভাবে করি, সেটা আমিও জানি না, তবে হয়ে যায়।”
এই বিশ্বকাপ নরওয়ের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর তারা বিশ্বকাপে খেলছে এবং ইতিহাসে প্রথমবার নকআউট পর্ব পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। সেই সাফল্যের অন্যতম স্থপতি হালান্ড। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বেই আট ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন তিনি। মূল পর্বেও সেই দুরন্ত ফর্ম বজায় রেখেছেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে হালান্ড বলেছিলেন, “এই মুহূর্তের জন্য আমরা অনেক বছর অপেক্ষা করেছি। সুযোগ যখন এসেছে, তখন সেটাকে কাজে লাগাতেই হবে।” মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স সেই কথারই প্রমাণ দিল। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বে নরওয়ের এই দল এখন অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে।
ক্লাব ফুটবলেও হালান্ড ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরাদের একজন। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির হয়ে ২০২৩ সালে প্রিমিয়ার লিগে এক মরসুমে ৩৬ গোল করে নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন। একই বছরে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ট্রেবলও সম্পূর্ণ করেন তিনি।
তবে এই বিশ্বকাপে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। হালান্ডের জার্সিতে শুধু ‘Haaland’ নয়, লেখা রয়েছে ‘Braut Haaland’। ‘ব্রাউট’ তাঁর মা গ্রি মারিতা ব্রাউটের পদবি, আর ‘হালান্ড’ এসেছে বাবা আল্ফ-ইঙ্গে হালান্ডের নাম থেকে। অর্থাৎ, বাবা ও মা— দু’জনের পরিচয়ই নিজের জার্সিতে বহন করছেন তিনি।
নরওয়ের সংস্কৃতিতে বাবা-মা দু’জনের পদবি ব্যবহার করা অস্বাভাবিক নয়। অনেক ক্রীড়াবিদই এই রীতি অনুসরণ করেন। বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে বড় মঞ্চেও হালান্ড সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে নিজের জীবনের দুই গুরুত্বপূর্ণ মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে মাঠে নেমেছেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?