৩২ বছরেই থামলেন কেএস ভরত!
ভারতীয় ক্রিকেটে আরও একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। মাত্র ৩২ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার Kona Srikar Bharat। যদিও ব্যাট-প্যাড পুরোপুরি তুলে রাখছেন না তিনি। বিদেশের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার দরজা খোলা রেখেছেন ভরত, যা তাঁর ক্রিকেটজীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
এক সময় Wriddhiman Saha-র পর ভারতের টেস্ট দলের ভবিষ্যৎ উইকেটরক্ষক হিসেবে দেখা হয়েছিল ভরতকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা এবং গ্লাভস হাতে নির্ভরযোগ্যতা তাঁকে জাতীয় দলের দরজায় পৌঁছে দিয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর। একই বছর ভারতের হয়ে ICC World Test Championship Final-এও খেলেছিলেন। দেশের হয়ে মোট সাতটি টেস্ট ম্যাচে ২২১ রান করেন তিনি। সাদা বলের ক্রিকেটে অবশ্য জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি।
অবসর ঘোষণার সময় আবেগঘন বার্তায় ভরত বলেন, দেশের হয়ে খেলা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথচলা সহজ ছিল না, কিন্তু ভারতের টেস্ট জার্সি গায়ে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা সব কষ্টকে সার্থক করেছে।
নিজের বার্তায় বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন Virat Kohli-কে। ভরতের কথায়, আইপিএলে কোহলি তাঁকে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি Rohit Sharma-র প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি, কারণ তাঁর নেতৃত্বেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল ভরতের।
এ ছাড়াও প্রাক্তন ভারতীয় কোচ Rahul Dravid-এর অবদানও স্মরণ করেছেন তিনি। ভারত ‘এ’ দল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত দ্রাবিড়ের পরামর্শ ও সমর্থন তাঁর কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছেন ভরত।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ভরতের পরিসংখ্যান অবশ্য বেশ সমৃদ্ধ। অন্ধ্রপ্রদেশের হয়ে ছয় হাজারেরও বেশি রান করেছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রয়েছে ত্রিশতরানের বিরল কীর্তিও। তাই আন্তর্জাতিক কেরিয়ার সংক্ষিপ্ত হলেও ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।
এখন দেখার বিষয়, বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে নতুন পরিবেশে ভরত নিজের দ্বিতীয় ইনিংস কতটা সফলভাবে শুরু করতে পারেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও তাঁর ক্রিকেটযাত্রা যে এখনও শেষ হয়নি, সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?