১৭ বছরেই শুরু ব্যবসা!
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্যবসার জগতে পা রেখেছিলেন। রাস্তার ধারে একটি ছোট চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজস্থানে একাধিক ক্যাফের মালিক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। উদ্যোক্তা হিসেবে যেমন পরিচিতি পেয়েছিলেন, তেমনই সমাজসেবামূলক কাজ ও রাজনীতিতে আগ্রহের কারণেও ছিলেন আলোচনায়। কিন্তু মাত্র ৩০ বছর বয়সেই তাঁর জীবনের ইতি টানার খবর স্তম্ভিত করেছে অনেককে। ‘চায়ওয়ালাজ়’ স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতা রোহিত শর্মার মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
রাজস্থানের দৌসার সাকেত কলোনির বাসিন্দা রোহিতের বাবা হিতেন্দ্রমোহন শর্মা একটি ওষুধের দোকান চালাতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন থেকেই অল্প বয়সে ব্যবসা শুরু করেন রোহিত। নার্সিংয়ের পড়াশোনা করতে করতেই তিনি ‘চায়ওয়ালাজ়’ নামে একটি চায়ের স্টার্টআপ গড়ে তোলেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
জয়পুরের মানসরবর এলাকার শিপ্রা পাথে প্রথম ক্যাফে চালু করেছিলেন তিনি। পরে জয়পুরে আরও একটি শাখা এবং রাজস্থানের বিভিন্ন শহর মিলিয়ে মোট সাতটি আউটলেট গড়ে ওঠে। অভিনব ভাবনা ও গ্রাহককেন্দ্রিক পরিষেবার কারণে স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে রোহিত হয়ে উঠেছিলেন অনুপ্রেরণা।
শুধু ব্যবসাই নয়, সমাজসেবাতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ‘মিশন হেল্পলাইন’ নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। ফলে ব্যবসায়ী পরিচয়ের পাশাপাশি সমাজকর্মী হিসেবেও এলাকায় তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিল।
তবে চলতি বছরের শুরুতে আচমকাই বদলে যায় পরিস্থিতি। প্রথমে জয়পুরের প্রধান ক্যাফেটি বন্ধ করে দেন রোহিত। এরপর ধীরে ধীরে ‘চায়ওয়ালাজ়’-এর বাকি আউটলেটগুলিও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আধ্যাত্মিকতার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং নিয়মিত বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে যাতায়াত করতেন।
ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিতেও আগ্রহ ছিল রোহিতের। ২০২৪ সালে দৌসা বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। পরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুরোধে তিনি সেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন বলে জানা যায়।
শনিবার দৌসার নিজের বাড়িতে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত এমন কোনও সরকারি তথ্য প্রকাশ হয়নি, যা এই চরম সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ স্পষ্ট করে।
রোহিতের পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, যিনি একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা, এবং সাত বছরের এক পুত্রসন্তান। অল্প বয়সে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও তাঁর আকস্মিক মৃত্যু এখন নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?