প্রায় ৬১ কেজি ওজন কমিয়ে কী ভাবে বদলে গেলেন অভিনেতা মনমীত সিংহ?
‘রব নে বনা দি জোড়ী’, ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’-এর মতো ছবিতে যখন তাঁকে দেখেছেন দর্শক, তখন মনমীত সিংহের ওজন ছিল প্রায় ১৫২ কেজি। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং থাইরয়েডের সমস্যাও সঙ্গী হয়েছিল। কিন্তু ৪৯ বছর বয়সে এসে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেন অভিনেতা। কয়েক বছর পর এখন তাঁর ওজন ৯১ কেজি।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে নিজের ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন ৫৭ বছরের মনমীত। অভিনেতার দাবি, এক বছরের মধ্যেই তিনি ১৫২ কেজি থেকে অনেকটা ওজন কমিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁর কথায়, বয়স ৪০ পেরোলেই নিজেকে বুড়ো ভাবার কোনও কারণ নেই। বরং নিজের মনকে তরুণ রেখে সুস্থ থাকার লক্ষ্যেই তিনি ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কী ভাবে কমালেন এতটা ওজন?
মনমীত জানিয়েছেন, ওজন কমানোর জন্য তিনি কোনও কঠোর ডায়েট বা নিয়মিত শরীরচর্চার পথে হাঁটেননি। তাঁর খাদ্যাভ্যাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল খাবারের সময়ের ব্যবধান বাড়ানো।
সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিতেন তিনি। তার পর পরের দিন পর্যন্ত প্রায় ১৬ ঘণ্টা কিছু না খেয়ে থাকতেন। দিনে সাধারণত দু’বার খাবার খেতেন, কোনও কোনও দিন এক বারও খাওয়া হত বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। বর্তমানে তাঁর খাবারের সময়ের ব্যবধান আরও বেড়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা হয়েছে। এখন বিকেল ৪টার মধ্যেই রাতের খাবার সেরে ফেলেন তিনি।
তবে প্রথম বার ওজন কমানোর পর ফের কিছুটা ওজন বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করান মনমীত। পরীক্ষায় থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়ে। অভিনেতার দাবি, বর্তমানে সেই সমস্যাও আর নেই এবং ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধও তাঁকে নিতে হয় না।
ক্যালোরির হিসাবেই নজর
মনমীত জানিয়েছেন, তিনি নিরামিষাশী এবং খাবারের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট পদ পুরোপুরি বাদ দেননি। তবে প্রতিদিন কত ক্যালোরি খাচ্ছেন, সে বিষয়ে নজর রাখেন। তাঁর দাবি, দৈনিক ১২০০ ক্যালোরির বেশি খাবার খান না। যেহেতু তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, তাই খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। মনমীতের ১২০০ ক্যালোরির ডায়েট অন্য কেউ নিজের মতো করে অনুসরণ করবেন না। দৈনিক কত ক্যালোরি প্রয়োজন, তা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে আলাদা। বয়স, উচ্চতা, ওজন, পেশির পরিমাণ, শারীরিক পরিশ্রম এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার উপর সেই প্রয়োজন নির্ভর করে।
শুধু ওজন কমলেই হবে না
অতিরিক্ত ওজন কমলে অনেকের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে উন্নতি হতে পারে। প্রাথমিক ওজনের ৫–১০ শতাংশ কমানোও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে শুধু ওজন কমানো যথেষ্ট নয়।
ওজন কমানোর সময় পেশির পরিমাণ ধরে রাখা, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও পুষ্টি নেওয়া এবং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখাও জরুরি। তাই কারও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সরাসরি ‘ডায়েট চার্ট’ হিসেবে অনুসরণ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
মনমীতের যাত্রা তাই শুধু ৬১ কেজি ওজন কমানোর গল্প নয়; বরং বয়স বাড়লেও নিজের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে সুস্থ থাকার চেষ্টা করার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।