ডেঙ্গি ধরা পড়ায় হাসপাতালে অবিকা গোর
কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা অনেক সময় তারকাদের অসুস্থতাকেও উপেক্ষা করতে বাধ্য করে। অভিনেত্রী অবিকা গোরের ক্ষেত্রেও ঘটল তেমনই। টানা পাঁচ দিন ধরে ১০৩–১০৪ ডিগ্রি জ্বর ছিল তাঁর। শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে ঠিক করে দাঁড়ানোও কঠিন হচ্ছিল। তবু কাজের প্রতিশ্রুতি রাখতে শুটিং বন্ধ করেননি অভিনেত্রী। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। পরীক্ষায় ধরা পড়েছে ডেঙ্গি।
শুক্রবার সমাজমাধ্যমে অবিকার শারীরিক অবস্থার কথা জানান তাঁর স্বামী মিলিন্দ চন্দওয়ানী। তিনি জানান, প্রবল জ্বর নিয়েই পরপর দু’দিন শুটিং করেছিলেন অবিকা। এমনকি এক দিন ১০৪ ডিগ্রি জ্বর থাকা সত্ত্বেও নিজের অংশের কাজ শেষ করেন।
এর পর দু’দিনের বিরতি পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু বিশ্রাম নিয়েও শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি। মিলিন্দের দাবি, সেই সময় প্রায় সারাদিন বিছানাতেই শুয়ে থাকতেন অবিকা। ওষুধ চললেও খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো করতে পারছিলেন না।
তার পরেও কাজ থামাতে চাননি অভিনেত্রী। একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য জ্বর নিয়েই দিল্লি চলে যান তিনি। যাওয়ার আগে রক্তপরীক্ষাও করিয়েছিলেন। মুম্বইয়ে ফিরে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর জানা যায়, তিনি ডেঙ্গিতে আক্রান্ত।
মিলিন্দ জানিয়েছেন, তিনি একাধিক বার অবিকাকে শুটিং পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এমনকি প্রযোজকেরা পরিস্থিতি বুঝবেন বলেও তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু অভিনেত্রী রাজি হননি। তাঁর যুক্তি ছিল, কাজ পিছিয়ে দিলে অন্যদের সময় নষ্ট হবে এবং তাঁদের আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হতে পারে।
অবিকার এই মানসিকতার প্রশংসা করেছেন তাঁর স্বামী। তাঁর কথায়, কাজের প্রতি অভিনেত্রীর ভালোবাসা এবং সহকর্মীদের সময় ও পরিশ্রমের প্রতি সম্মান সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে অবিকার সুস্থ হয়ে ওঠাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনুরাগীদের কাছেও অভিনেত্রীর দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
দিল্লিতে বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অবিকার সঙ্গে থাকা দলের এক সদস্যও তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, সেই সময় অবিকার পক্ষে ঠিকমতো দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ ছিল, মূলত ওআরএস-এর উপরেই ভরসা করতে হচ্ছিল। তবু শুটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী।
অবিকার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর অনুরাগী ও সহকর্মীরা। সকলেই তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও গত বছর নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল অবিকা ও মিলিন্দের। দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালের জুনে তাঁদের বাগ্দান হয়। কয়েক মাস পর, সেপ্টেম্বরে বিয়ে করেন তাঁরা। এখন কাজের প্রতি অবিকার এই দায়বদ্ধতার পাশাপাশি অনুরাগীদের একটাই প্রার্থনা—দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরুন অভিনেত্রী।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।