যুবকের গলায় ১৮ বার ছুরির কোপ
মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের রাস্তায় ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনায় বন্ধুকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ও নিহত দুইজনই মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন। এই ভয়াবহ ঘটনা ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে।
প্রকাশ্য রাস্তায় খুন
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকেলে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইনদওরের একটি রাস্তায় দুই যুবক হাঁটছিলেন। একজন সামনে, আরেকজন একটু পিছনে। আচমকা পেছনের যুবক দ্রুত এগিয়ে এসে সামনের ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর পকেট থেকে ছুরি বের করে একের পর এক আঘাত করেন। ধারালো ছুরি দিয়ে গলায় ১৮ বার কোপ বসানো হয়। শেষ পর্যন্ত গলা কেটে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। আহত যুবক রাস্তার ওপর যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে প্রাণ হারান।
পুলিশ ও স্থানীয়দের পদক্ষেপ
প্রকাশ্য রাস্তায় এমন নিষ্ঠুর ঘটনা স্থানীয়দের নজরে আসে। অভিযুক্ত প্রমোদ সাই যাদব খুনের পর নিজের বাড়িতে চলে যান। কিন্তু স্থানীয়রা তাকে ধরেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন। নিহতের নাম বিনোদ রাঠোর (৩৫)। পুলিশ জানিয়েছে, দুজনের মধ্যে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তুচ্ছ বিষয়ে ঝগড়া হয়েছিল।
কীভাবে ঘটল এমন ভয়াবহ খুন?
জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আগে দুজনেই মাদক সেবন করেছিলেন। সেই সময় তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বিনোদ আচমকা প্রমোদকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেন বলে দাবি করেছে অভিযুক্ত। এতে প্রমোদ আঙুলে আঘাত পান এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর বিনোদ ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে রাস্তায় হাঁটতে থাকেন। কিন্তু ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা প্রমোদ ছুরি নিয়ে তাকে অনুসরণ করে খুন করেন।
তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দুজনের মধ্যে পুরনো কোনও শত্রুতা বা মতবিরোধের প্রমাণ মেলেনি। এটি তাৎক্ষণিক রাগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। খুনে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে শনিবার আদালতে হাজির করানো হবে। নিহতের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা থেকে কী শিক্ষা নেওয়া উচিত?
এই মর্মান্তিক ঘটনা সমাজে মাদকাসক্তি এবং হিংসার ভয়াবহতা তুলে ধরে। মাদকাসক্তি কেবল ব্যক্তির জীবন নয়, আশেপাশের মানুষের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের দায়িত্ব হলো মাদক এবং এর পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।
এমন অপ্রত্যাশিত ও নির্মম ঘটনা মানবিক মূল্যবোধের প্রতি প্রশ্ন তোলে। আমাদের উচিত সহনশীলতা ও ধৈর্যের চর্চা করা, যেন তুচ্ছ বিষয়েও প্রাণঘাতী সংঘাত এড়ানো যায়।