স্পেন্সের উপর ক্ষুব্ধ টুখেল!
বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ কঙ্গোর বিরুদ্ধে একসময় ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। সেই মুহূর্তে দলের খেলা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন কোচ টমাস টুখেল। ডান প্রান্তে রাইট ব্যাক জেড স্পেন্সের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট হয়ে মাঠের ধারে দাঁড়িয়েই তাঁকে উদ্দেশ করে উত্তেজিত ভঙ্গিতে নির্দেশ দিতে দেখা যায় জার্মান কোচকে। কিছুক্ষণ পরেই নেওয়া তাঁর একটি কৌশলগত সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
চোটের কারণে নিয়মিত রাইট ব্যাক রিস জেমস এবং জ্যারেল কোয়ানসাকে না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে স্পেন্সকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন টুখেল। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের ডান দিক কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। স্পেন্স রক্ষণ সামলাতেই বেশি ব্যস্ত থাকায় সেই দিক দিয়ে আক্রমণ গড়ে উঠছিল না, যা কোচের বিরক্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথমার্ধের পর পরিস্থিতি বদলাতে দেরি করেননি টুখেল। স্পেন্সকে তুলে মাঠে নামান এবেরেচি এজ়েকে। যদিও এজ়ে স্বাভাবিক অর্থে রাইট ব্যাক নন, তবু এই বদলের সঙ্গে সঙ্গে গোটা দলের ছকও পাল্টে দেন ইংল্যান্ড কোচ। ডেকলান রাইসকে রক্ষণভাগে নামিয়ে এনে এজ়েকে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় খেলতে দেন।
এই পরিবর্তনের পরই ইংল্যান্ডের ডান প্রান্ত প্রাণ ফিরে পায়। একের পর এক ক্রস বক্সে ভেসে আসতে থাকে এবং কঙ্গোর রক্ষণ চাপে পড়ে। সেই চাপ থেকেই আসে সমতার গোল। হ্যারি কেন প্রথমে গোল করে ম্যাচে ফেরান ইংল্যান্ডকে, পরে আরও একটি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
পরিসংখ্যান বলছে, এজ়ে নিজে গোল করেননি, এমনকি কোনও অ্যাসিস্টও তাঁর নামে নেই। কিন্তু মাঠে নামার পর ইংল্যান্ডের আক্রমণের গতি, ছন্দ এবং ধার— সবই বদলে যায়। তাঁর উপস্থিতিতে ডান দিক দিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণ গড়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ম্যাচ শেষে স্পষ্ট হয়ে যায়, টুখেলের ক্ষোভ ছিল শুধুই আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত কৌশল বদলানোর সিদ্ধান্তই ইংল্যান্ডকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে। কোচের সেই সাহসী পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত দলের বিশ্বকাপ অভিযান বাঁচিয়ে দেয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?