সোনার থ্রো, তবু মন ভরল না নীরজের!
পাঁচ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় সোনা ঘরে তুলেও মুখে হাসি নেই অলিম্পিক্সজয়ী নীরজ চোপড়ার। মঙ্গলবার চেক প্রজাতন্ত্রের ওস্ত্রাভায় ‘গোল্ডেন স্পাইক’ প্রতিযোগিতায় ৮৫.২৯ মিটার জ্যাভলিন ছুড়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। তবে জয় সত্ত্বেও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন ভারতীয় তারকা। কারণ, লক্ষ্য তাঁর আরও উঁচু— ৯০ মিটারের গণ্ডি টপকানো।
ওস্ত্রাভার প্রতিযোগিতায় মোট ছ’বার থ্রো করেন নীরজ। এর মধ্যে প্রথম ও শেষ থ্রো ফাউল হলেও বাকি চারটি যথাক্রমে ৮৩.৪৫, ৮২.১৭, ৮৫.২৯ এবং ৮১.০১ মিটার। তাঁর তৃতীয় থ্রোই ছিল সেরা, যা তাঁকে সোনার হাসি এনে দেয়। কিন্তু সেই হাসি ছড়ায়নি মুখে। কারণ, স্বপ্নের ৯০ মিটার থেকে তা অনেকটাই কম।
প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার দৌউয়ি স্মিথ (৮৪.১২ মিটার) এবং তৃতীয় স্থানে গ্রেনাডার প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অ্যান্ডারসন পিটার্স (৮৩.৬৩ মিটার)। যদিও এই তালিকায় অনুপস্থিত ছিলেন জার্মানির জুলিয়ন ওয়েবার, যাঁর সঙ্গে প্রতিবারই জমজমাট লড়াই হয় নীরজের।
এটাই প্রথম নয়, যেখানে জয় পেয়েও অখুশি নীরজ। গত ২০ জুন প্যারিসে ডায়মন্ড লিগে সোনা জিতলেও নিজের থ্রোয়ে তৃপ্ত হননি তিনি। একমাত্র ব্যতিক্রম, এ বছরের এক প্রতিযোগিতায় তাঁর ৯০.২৩ মিটারের থ্রো, যা তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম উচ্চতা। আর সেই কারণেই এখন প্রতিটি ম্যাচে ৯০ মিটারের থ্রোই যেন তাঁর মানসিক বাধ্যবাধকতা।
টোকিয়ো অলিম্পিক্সে সোনা জেতার পরে প্যারিস অলিম্পিক্সে রুপো জয় করে আরশাদ নাদিমের কাছে হেরে যান নীরজ। তখন থেকেই একটাই ধাক্কা— কী ভাবে প্রতিটি আসরে ৯০ মিটার পার হওয়া যায়। তারই পথে দৃঢ় পায়ে এগোচ্ছেন নীরজ।
একের পর এক পদক ঘরে এলেও আত্মতুষ্টিতে ভোগেন না তিনি। আর সেই মনোভাবই বারবার তাঁকে এগিয়ে দিয়েছে বিশ্বমঞ্চে। ওস্ত্রাভায় সোনা পেলেও তাঁর চোখে সেটি শুধুই আরেকটা সিঁড়ি, চূড়ায় ওঠার পথে।
নীরজের এই নিরন্তর আত্মসমালোচনাই হয়তো তাঁকে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে অন্যতম সেরা করে তুলবে।
“জসপ্রীত, আমাদের তোমাকে দরকার!”— স্ত্রীকে বোঝাতে বললেন গাওস্কর-পুজারা, বুমরার জবাবে মজার টুইস্ট