সিরাজ দেখালেন পথ!
ভারতীয় ক্রিকেটে এক সময় তারকাদের ‘বিশ্রাম’ ছিল প্রায় নিয়মের মতো—বিশেষ সিরিজে জসপ্রীত বুমরাহ, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের মাঠের বাইরে থাকা যেন খুব স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। ধকল সামলানোর কথা বলে একের পর এক ম্যাচে বিশ্রাম, ফিজিওর পরামর্শে না খেলার সিদ্ধান্ত—এসব চলছিল বহুদিন ধরেই। কিন্তু এবার হয়তো সেই দিন ফুরাচ্ছে।
ওভাল টেস্টে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেওয়া মহম্মদ সিরাজ ভারতীয় দলের সামনে এক নতুন বার্তা তুলে ধরেছেন—একজন পেসার হয়েও কীভাবে ধারাবাহিকভাবে পাঁচটি টেস্ট ম্যাচ খেলে যাওয়া যায়, চোট বা ক্লান্তিকে পাশে সরিয়ে রেখে দলের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়া যায়।
এই সিরিজে সিরাজ একমাত্র পেসার, যিনি পাঁচটি ম্যাচেই খেলেছেন। ১৮৫ ওভারের বেশি বল করেছেন, এবং প্রতি স্পেলে একই উদ্যমে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কোচ গৌতম গম্ভীর ও নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর ঠিক এই মানসিকতাটাই চান আগামী দিনের ভারতীয় ক্রিকেটে।
তারকা সংস্কৃতির অবসান?
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়দের ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—কে কোন ম্যাচে খেলবেন আর কোনটায় বিশ্রামে থাকবেন, সেটা আর খেলোয়াড়ের ইচ্ছায় চলবে না। এই সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ এবং নির্বাচকরা, মেডিক্যাল টিম ও ফিজিয়োর রিপোর্টের ভিত্তিতে। কোনো বড় ম্যাচে ‘শরীরের ধকল’ দেখিয়ে বসে পড়ার জায়গা আর থাকছে না।
বোর্ডের এক আধিকারিক পিটিআইকে বলেন, “আগে অনেকেই নিজে সিদ্ধান্ত নিতেন কোন ম্যাচে খেলবেন, কোনটায় বিশ্রাম নেবেন। সেটা এখন থেকে আর হবে না। খেলোয়াড়েরা নিজেরাই দলের ঊর্ধ্বে হয়ে উঠছিলেন, সেটা গম্ভীরের ভাবনায় একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
উদাহরণ সিরাজ, প্রেরণা স্টোকস
এই পরিবর্তনের পিছনে সিরাজ তো আছেনই, পাশাপাশি ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসের কথাও নজরে রেখেছেন কোচ গম্ভীর। চোটের ধাক্কা সামলেই স্টোকস পুরো সিরিজে বল হাতে অবদান রেখেছেন। এসবই বুঝিয়ে দিচ্ছে—একটা ম্যাচ জেতার জন্য শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি, দায়বদ্ধতা।
প্রোটিন খেয়ে মেদ ঝরাতে গিয়ে বেড়ে যেতে পারে ওজন, কোন ভুলে এমন হতে পারে?