“সিবিআই অভিষেককে টার্গেট করছে!”
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জশিটে ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’ নামের উল্লেখ করেছে সিবিআই। তবে তাঁকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়নি, বরং শুধু নামটুকুই রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলের বক্তব্য— “অভিষেকের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই মরিয়া হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা!”
চার্জশিটে ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’ নাম, কিন্তু কোন অভিষেক?
সিবিআই সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৮ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে। সেখানে ‘কালীঘাটের কাকু’ নামে পরিচিত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের কথোপকথনের একটি অডিয়ো ক্লিপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সেই অডিয়ো ক্লিপে ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’ নামটি শোনা গিয়েছে।
⚡ তবে চার্জশিটে এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচয় স্পষ্ট করা হয়নি।
⚡ তিনি কি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক? নাকি অন্য কেউ?— এই প্রশ্নের উত্তর নেই চার্জশিটে।
⚡ অন্য অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে তাঁদের পরিচয় বিশদে লেখা হলেও, অভিষেকের ক্ষেত্রে শুধু নামটুকুই রয়েছে।
“সিবিআই পরিকল্পিতভাবে অভিষেকের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে”— পাল্টা দাবি তৃণমূলের
চার্জশিট প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সঞ্জয় বসু বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন—
🗣️ “সিবিআই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে।”
🗣️ “ইডি যখন অভিষেকের বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণ পায়নি, তখন সিবিআইকে কাজে লাগানো হচ্ছে।”
🗣️ “এটি সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক পদক্ষেপ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত।”
অভিষেকের দাবি— ইডি-সিবিআইয়ের তদন্তে সহযোগিতা করেও মিলছে হয়রানি
🔹 অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, “তদন্তে সহযোগিতা করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় প্রস্তুত ছিলেন এবং তিনি সব প্রাসঙ্গিক নথিও জমা দিয়েছেন।”
🔹 “ইডি এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও চার্জশিট দাখিল করেনি, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের উপাদান মেলেনি।”
🔹 “কিন্তু সিবিআই এখন তাঁকে টার্গেট করে ভিত্তিহীন চার্জশিট তৈরি করেছে।”
সিবিআইয়ের চার্জশিটে কী রয়েছে?
সিবিআই চার্জশিট অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বেআইনি নিয়োগের জন্য ‘১৫ কোটি টাকা’ দাবি করা হয়েছিল।
➡️ অভিযোগ, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র বলেছেন, এই টাকা দিতে না পারলে চাকরির নিয়োগ আটকে দেওয়া হবে।
➡️ এমনকি, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে, চাকরিপ্রার্থীদের গ্রেফতার করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
➡️ সেই কথোপকথনেই ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’ নামটি উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
তবে, এই চার্জশিটে ‘অভিষেক’ কে— তা উল্লেখ করা হয়নি, যা নিয়েই বিতর্ক তুঙ্গে।
“নির্দিষ্ট তথ্য নেই, শুধু সন্দেহের বশে নাম জড়ানো হয়েছে”
তৃণমূলের দাবি, চার্জশিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও প্রমাণ নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে—
👉 “যে চার্জশিটে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, সেখানে তার পরিচয় লেখা হয়। কিন্তু এখানে অভিষেকের নাম রাখা হলেও তাঁর কোনও পরিচয় দেওয়া হয়নি।”
👉 “এই ধরনের অস্পষ্টতা ইচ্ছাকৃত এবং রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ।”
👉 “তদন্তের নামে অভিষেককে বদনাম করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় সংস্থা।”
এগোচ্ছে তদন্ত, পাল্টা আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি তৃণমূলের
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ইঙ্গিত, এই মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে।
📌 তৃণমূলের কৌশল:
✅ সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে প্রচারে নামবে দল।
✅ চার্জশিটে নাম তোলা হলেও, অভিষেকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ নেই— এই দিকটি তুলে ধরা হবে।
✅ বিজেপির “প্রতিহিংসার রাজনীতি” করছে— এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
শেষ কথা
সিবিআইয়ের চার্জশিটে ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’ নামের উল্লেখ নিয়ে তৃণমূল এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে।
💬 সিবিআই বলছে— অডিয়ো ক্লিপে নাম পাওয়া গিয়েছে, তাই চার্জশিটে রাখা হয়েছে।
💬 তৃণমূল বলছে— পরিচয় না দিয়েই নাম রাখা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এখন দেখার, এই বিতর্ক আইনি পথে এগোয়, নাকি রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন হাতিয়ার হয়ে ওঠে!
শুরুতেই ছন্দহীন শামি, এক ওভারে ১১ বল! বুমরাহের রেকর্ড ভাঙলেন বাংলার পেসার