নজির গড়ল নবাগত অহান-অনীতের ‘সইয়ারা’!
একটা প্রচারহীন, ছোট বাজেটের ছবি যে এমন আলোড়ন ফেলতে পারে, তা কেউই ভাবতে পারেননি। বলিউডে যখন বড় বড় তারকারা আর ব্লকবাস্টার ঘরানার ছবিও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ছে, তখন একেবারে নতুন দুই মুখ—অহান পাণ্ডে ও অনীত পাড্ডা—প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করলেন। ছবির নাম সইয়ারা। মুক্তি পেয়েছে ১৮ জুলাই। আর এখন, দ্বিতীয় সপ্তাহেই সিনেমাটি একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে।
প্রথমে কেউই খুব একটা গুরুত্ব দেননি সইয়ারা-কে। না ছিল বিশাল প্রচার, না কোনো বড় স্টারকাস্ট। তবে ভালো গল্প, সংবেদনশীল অভিনয় আর একেবারে আলাদা আবহই যেন দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। এই ছবির বিষয়—ভালোবাসা। কিন্তু সেটা কোন চিৎকার-চেঁচামেচির প্রেম নয়, নেই হিংসা বা দখলদারির মনোভাব। বরং আছে অপেক্ষা, আবেগ, এবং সম্পর্কের পরিণত রূপ।
দ্বিতীয় সপ্তাহেই বাজিমাত!
দর্শকদের মুখে মুখে প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ার পর ছবিটি প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করে। আর দ্বিতীয় সপ্তাহে পৌঁছে গেছে ২৬৬ কোটির ঘরে (ভারতীয় বাজারে), বিশ্বজুড়ে আয় ছাড়িয়ে গেছে ৪০০ কোটির গণ্ডি। এই সংখ্যাগুলো একদিকে যেমন চমকে দিয়েছে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে, তেমনই অন্যদিকে অনেক ‘স্থাপিত’ তারকার কপালও কুঁচকেছে।
কারা পড়লেন পিছনে?
আমির খানের সাম্প্রতিক ছবি সিতারে জমিন পর আয় করেছিল ২৬৪ কোটি টাকা। সইয়ারা সেই অঙ্ককে টপকে গেল। সলমন খানের বহু প্রতীক্ষিত ছবি সিকন্দর তো প্রথম সপ্তাহেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। অন্যদিকে, এই ছবির সাফল্য ছুঁয়ে ফেলেছে বা ছাড়িয়ে গিয়েছে কবীর সিংহ, আশিকি ২, হাফ গার্লফ্রেন্ড, এক ভিলেন বা মার্ডার ২-এর মতো জনপ্রিয় রোমান্টিক ড্রামাকেও।
দর্শক কী বলছেন?
সিনেমা সমালোচকরা বলছেন, অতিমারির পরবর্তী সময়ে যখন বলিউডে পুরুষতান্ত্রিকতা, নারীবিদ্বেষ এবং চড়া হিংসার চিত্রনাট্যই মূলধারায় চলে এসেছে, তখন সইয়ারা-র মতো সংবেদনশীল প্রেমের গল্প যেন একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে দর্শকদের মধ্যে। প্রেম এখানে আবেগের রূপ পেয়েছে, দখলের নয়—এই জায়গাটাই সিনেমাটিকে আলাদা করেছে।
অহান ও অনীত—নতুন যুগের নায়ক-নায়িকা?
অহান পাণ্ডে ও অনীত পাড্ডা—এই দুই নতুন মুখ এখন রাতারাতি তারকা। সইয়ারা তাঁদের কেরিয়ারের প্রথম ছবি, অথচ তাতে যে পরিপক্বতা, সেটা বলিউডের অনেক অভিজ্ঞ অভিনেতাও কখনও কখনও তুলে ধরতে পারেন না। তাঁদের অভিনয়, সংলাপ বলার ভঙ্গি, এবং পর্দায় রসায়ন দর্শকদের মন জয় করেছে।
বলিউডে নতুন হাওয়া?
চলতি বছর সইয়ারা প্রমাণ করল—স্টারপাওয়ার নয়, গল্প-ভাবনা-সংবেদনশীলতা দিয়েও দর্শক টানা যায়। প্রযোজকেরাও হয়তো এবার নতুন চিন্তাভাবনায় এগোতে বাধ্য হবেন। আর এই সাফল্যে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—দর্শক আবার হলে ফিরেছেন, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ছবির খোঁজে। সইয়ারা তাই শুধু একটা ছবি নয়, এটা হতে চলেছে এক নতুন ধারা শুরুর নাম।
করিশ্মার কঠিন সময়ে করিনার নীরব শক্তি: কিভাবে দিদিকে পাশে দাঁড়ালেন বেবো?