Friday, February 28, 2025

সন্তানকে বড় করতে ‘পান্ডা পেরেন্টিং’ কি সঠিক উপায়? জানুন এর কার্যকারিতা

Share

পান্ডা পেরেন্টিং

কেউ মনে করেন, সন্তানকে কড়া শাসনে বড় করাই সঠিক পদ্ধতি। আবার কেউ বলেন, বেশি শাসন করলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তবে কীভাবে সন্তানকে স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য রেখে বড় করা যায়?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘পান্ডা পেরেন্টিং। এটি এমন এক অভিভাবকত্বের ধারণা, যেখানে বাবা-মায়েরা সন্তানদের নিজের মতো বেড়ে উঠতে সাহায্য করেন, কিন্তু প্রয়োজনে পাশে থাকেন।

👩‍👧 কী এই ‘পান্ডা পেরেন্টিং’?

আমরা জানি, পান্ডা প্রাণীগুলি শান্ত স্বভাবের এবং তারা তাদের বাচ্চাদের স্নেহ দিয়ে লালন করে, কিন্তু সবসময় নিয়ন্ত্রণ করে না।

‘পান্ডা পেরেন্টিং’-এর মূল কথাও সেটাই—
✅ সন্তানকে নিজের মতো শিখতে দেওয়া
✅ নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গড়ে তোলা
✅ ভুল করলে তা থেকে শিক্ষা নিতে সাহায্য করা
✅ অতিরিক্ত শাসন বা হস্তক্ষেপ না করা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ‘টাইগার পেরেন্টিং’ বা ‘হেলিকপ্টার পেরেন্টিং’-এর ঠিক বিপরীত ধারণা। এখানে বাবা-মায়েরা সন্তানদের প্রতিটি কাজে নজরদারি করেন না, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার দিকে গুরুত্ব দেন।

📖 কোথা থেকে এল ‘পান্ডা পেরেন্টিং’-এর ধারণা?

আমেরিকার সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ এস্থার ওয়েজিস্কি তাঁর বই “How to Raise Successful People: Simple Lessons for Radical Results”-এ প্রথম ‘পান্ডা পেরেন্টিং’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

এস্থার নিজেও দুই সন্তানের মা। তাঁর মতে, “ভালো অভিভাবকরা সন্তানের প্রতিটি কাজে হস্তক্ষেপ না করে, তাদের নিজস্ব পথ খুঁজে নিতে সাহায্য করেন। পান্ডা মায়েরা যেমন সন্তানকে আগলে রাখে, কিন্তু স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে দেয়— তেমনই হওয়া উচিত অভিভাবকদের।”

🧠 ‘পান্ডা পেরেন্টিং’-এর ইতিবাচক দিক

🔹 সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় – তারা ছোট থেকেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।
🔹 ভুল থেকে শেখার অভ্যাস গড়ে ওঠে – বাবা-মা সবকিছু ঠিক করে দিলে সন্তানরা সমস্যার সমাধান করতে শেখে না।
🔹 নতুন কিছু শেখার আগ্রহ বাড়ায় – স্বাধীনতা থাকলে শিশুরা সৃজনশীল হয় ও নতুন জিনিস শেখার আগ্রহ বাড়ে।
🔹 সন্তান ও অভিভাবকের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে ওঠে – শাসনের পরিবর্তে বোঝাপড়া তৈরি হয়।

⚠️ তবে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে!

স্বাধীনতা মানেই দায়িত্ব। অনেক সময় অতিরিক্ত স্বাধীনতা পেলে শিশুরা দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়ে যেতে পারে

মনোবিজ্ঞানী অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, “সব শিশু একরকম হয় না। কেউ সহজেই দায়িত্ব নিতে পারে, কেউ পারে না। তাই অভিভাবকদের উচিত সঠিক গাইডলাইন দেওয়া।”

🔻 যদি সন্তান সীমারেখা না বুঝে, তাহলে সে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
🔻 সন্তানকে স্বাধীনতা দিলেও তাকে দায়িত্বশীল করে তোলা জরুরি।
🔻 অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পেলে, সেটার সঠিক ব্যবহার শেখানো প্রয়োজন।

🔍 তাহলে কোন পদ্ধতিটি সেরা?

সন্তান মানুষ করার কোনো নির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই। প্রতিটি শিশুর ব্যক্তিত্ব আলাদা, তাই একজন অভিভাবককে তার সন্তানের প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

📌 যদি আপনার সন্তান আত্মনির্ভরশীল হয়, তাহলে ‘পান্ডা পেরেন্টিং’ কাজে লাগতে পারে।
📌 তবে যদি সে দায়িত্ব নিতে শেখার আগেই অতিরিক্ত স্বাধীনতা পায়, তাহলে বিপরীত ফল হতে পারে।

🔎 শেষ কথা

‘পান্ডা পেরেন্টিং’-এর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, সন্তানকে স্বাধীনতা দিতে হবে, তবে তার সঙ্গে দায়িত্ববোধও শেখাতে হবে।

অভিভাবকদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শাসন ও স্বাধীনতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা। তাহলে সন্তান আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে

আপনার কি মনে হয়, ‘পান্ডা পেরেন্টিং’ কার্যকরী? নাকি সন্তান মানুষ করতে অন্য কোনো পদ্ধতি ভালো?

৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল, কম্পন অনুভূত শিলিগুড়িতেও! আতঙ্কে রাত কাটালেন বাসিন্দারা

Read more

Local News