সঙ্গীর মৃত্যুর শোকে স্তব্ধ সাপিনী! ২৪ ঘণ্টা লাশের পাশে নিথর, শেষে মৃত্যু তারও

সঙ্গীর মৃত্যুর শোকে স্তব্ধ সাপিনী! মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলার একটি ছোট গ্রামে এমন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন স্থানীয়রা, যা পশুপ্রেম ও ভালোবাসার সংজ্ঞাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে দিল। রাস্তা পার…

June 30, 2025
1 min read

সঙ্গীর মৃত্যুর শোকে স্তব্ধ সাপিনী!

মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলার একটি ছোট গ্রামে এমন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন স্থানীয়রা, যা পশুপ্রেম ও ভালোবাসার সংজ্ঞাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে দিল। রাস্তা পার হওয়ার সময় চলন্ত গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় একটি পুরুষ সাপের। কিন্তু এটাই ছিল না শেষ পরিণতি। ঘটনার পরদিন দেখা যায়, মৃত সাপটির পাশে অবিচলভাবে বসে রয়েছে একটি স্ত্রী সাপ, যে কিছুতেই সরতে চাইছে না সঙ্গীর পাশ থেকে। শেষপর্যন্ত, প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাটানোর পর স্তব্ধ হয়ে যায় সেই সর্পিণীর দেহও। সঙ্গীর শোকে মৃত্যু—এমনটাই বলছেন গ্রামবাসীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে মোরেনা জেলার পাহাড়গড় পঞ্চায়েতের ধুরকুদা কলোনি এলাকায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি পুরুষ সাপ রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। তার দেহ সরিয়ে রাস্তার ধারে রেখে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি স্ত্রী সাপ সেখানে এসে মৃত সাপটির গা ঘেঁষে চুপ করে বসে থাকে। সেই নিঃশব্দ দৃশ্য দেখে প্রথমে অবাক হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিস্ময় ধীরে ধীরে রূপ নেয় মুগ্ধতায়।

প্রথমে সাপটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন গ্রামবাসীরা। কেউ ঢিল ছোড়েন, কেউ লাঠি নিয়ে এগিয়ে যান, কিন্তু সাপটি এক চুলও নড়েনি। সে যেন কিছুতেই তার প্রিয় সঙ্গীর পাশ ছেড়ে যেতে রাজি নয়। অনেকেই বলেন, সাপ তো প্রাণী—তাদেরও কি শোক বলে কিছু থাকে? কিন্তু এই ঘটনার পর হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। সাপটির ধৈর্য, শোক ও নীরব উপস্থিতি যেন এক প্রকার মানসিক সংবেদনশীলতারই প্রতিফলন।

পরদিন, অর্থাৎ শুক্রবার দুপুর নাগাদ গ্রামের মানুষ দেখেন, সেই স্ত্রী সাপটির আর কোনো নড়াচড়া নেই। তার নিথর দেহও পড়ে রয়েছে মৃত পুরুষ সাপটির পাশেই। একই জায়গায় মৃত্যু, একই বেদনা আর এক অবিনশ্বর ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠল এই সর্প-যুগল। শেষপর্যন্ত, স্থানীয় বাসিন্দারাই দেহ দুটি একসঙ্গে সৎকার করেন এবং তাঁদের সম্মান জানিয়ে একটি ছোট বেদি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।

সনাতন হিন্দু বিশ্বাসে নাগ ও নাগিনকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখানো হয়। একে শিবের বাহন, অন্যদিকে প্রকৃতি ও শক্তির রূপ হিসেবেও দেখা হয়। তাই এমন ঘটনায় আবেগঘন হয়ে পড়েন এলাকাবাসীরা। গ্রামে এই বেদি তৈরি করা হবে সেই ভালোবাসার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে।

‘আমার জীবনের চালিকাশক্তি তুমি’ – জন্মদিনে রুক্মিণীকে আদর করে দেব দিয়েছে স্পেশাল শুভেচ্ছা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *