সংসদ অভিযানে অনুমতি নেই, যন্তর মন্তরের অবস্থানও ‘বেআইনি’ দাবি দিল্লি পুলিশের; অনড় ‘ককরোচ’ দল

যন্তর মন্তরের অবস্থানও ‘বেআইনি’ দাবি দিল্লি পুলিশের! সোমবারের ঘোষিত সংসদ অভিযান ঘিরে দিল্লিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র কর্মসূচিকে ঘিরে কড়া অবস্থান নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তাদের…

July 19, 2026
1 min read

যন্তর মন্তরের অবস্থানও ‘বেআইনি’ দাবি দিল্লি পুলিশের!

সোমবারের ঘোষিত সংসদ অভিযান ঘিরে দিল্লিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র কর্মসূচিকে ঘিরে কড়া অবস্থান নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তাদের দাবি, যন্তর মন্তরে দলের চলমান অবস্থান-বিক্ষোভের বৈধ অনুমতি নেই। পাশাপাশি, ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানেরও কোনও অনুমতি দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রের দাবি, সিজেপি-কে যন্তর মন্তরে মাত্র এক দিনের জন্য বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও দলটি নতুন করে অনুমতি না নিয়েই অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে। তাই বর্তমান কর্মসূচিকে ‘অবৈধ’ বলেই মনে করছে দিল্লি পুলিশ।

অন্যদিকে, সোমবার সংসদ অভিমুখে মিছিলের পরিকল্পনাও বাতিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, সংসদ ভবন এবং তার আশপাশের এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে পড়ে। তাই সংসদের দিকে এগোনো যে কোনও বড় মিছিল মাঝপথেই আটকে দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মধ্য দিল্লিতে যানজট এড়ানোর স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের বক্তব্য।

সিজেপি অবশ্য পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ। দলের মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর জানিয়েছেন, সংসদ অভিযানের বিষয়ে পুলিশকে আগেই জানানো হয়েছিল। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, দিল্লি পুলিশের সদর দফতরে গিয়ে মৌখিকভাবে কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছিল এবং পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।

প্রসঙ্গত, নিট-সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। এক সপ্তাহ পরে সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনশন শুরু করেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

টানা ২০ দিনের বেশি অনশনের পর শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশের দাবি, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে ওয়াংচুকের পরিবার জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাঁর অনশন ভাঙেনি। স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমোর দাবি, তিনি এখনও শুধুমাত্র নুনজল গ্রহণ করছেন এবং কোনও ধরনের চিকিৎসা বা ওষুধ নিতে রাজি নন। পরিবারের পক্ষ থেকেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তাঁদের অনুমতি ছাড়া কোনও চিকিৎসা না করতে।

ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনের নেতৃত্বে এসেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি যন্তর মন্তরের একই মঞ্চে অনশন শুরু করেছেন এবং সোমবারের সংসদ অভিযানের ঘোষিত কর্মসূচিও বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন।

এখন নজর সোমবারের দিকে। পুলিশ যেখানে মিছিল রুখে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে সিজেপি তাদের কর্মসূচি থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানীতে নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *