শোভাবাজারে হুড়মুড়িয়ে ভাঙল বাড়ির বারান্দা-ছাদ
শুক্রবার দুপুরে উত্তর কলকাতার শোভাবাজারে আচমকা একটি পুরনো বাড়ির বারান্দা ও ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়াল। দুর্ঘটনায় বাড়ির ভিতরে থাকা দুই বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনও পথচারী আটকে রয়েছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালাচ্ছে দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
ঘটনাটি ঘটেছে ৬৬, রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ আচমকাই বাড়িটির বারান্দা এবং ছাদের একটি অংশ ভেঙে গলির রাস্তায় পড়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তখনই তাঁরা বাড়ির ভিতরে থাকা দু’জনকে দেখতে পান।
ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে দ্রুত তাঁদের বাড়ির বাইরে বার করে আনেন স্থানীয়েরা। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলকে। প্রাথমিক ভাবে বাড়ির ভিতরে আর কেউ আটকে নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু বাড়ির ভাঙা অংশ রাস্তায় পড়ে যাওয়ায় কোনও পথচারী তার নীচে চাপা পড়েছেন কি না, সেই আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলবাহিনী। এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা ধাপে ধাপে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। সম্ভাব্য আটকে পড়া ব্যক্তির সন্ধানে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে ডগ স্কোয়াডও। প্রশিক্ষিত কুকুরের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপের নীচে কারও উপস্থিতির চিহ্ন রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাড়িটি বেশ পুরনো এবং দীর্ঘদিন ধরেই জীর্ণ অবস্থায় ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ঈশ্বরদয়াল সাউয়ের দাবি, পুরসভার নথিতেও বাড়িটিকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ‘‘পুরসভা আগে এ দিকে নজর দেয়নি। এখন তো কাউন্সিলরও নেই।’’
জানা গিয়েছে, বাড়িটির উপরের তলায় আরও দু’জন ভাড়াটিয়া থাকেন। তবে তাঁরা শুক্রবার সকালে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে দুর্ঘটনার সময় তাঁরা বাড়িতে ছিলেন না।
গত কয়েক দিন ধরে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি চলছে। তার জেরে পুরনো ও দুর্বল বাড়িগুলির বিভিন্ন অংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিটের এই বাড়ির অংশ কেন ভেঙে পড়ল, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনও পথচারী আটকে রয়েছেন কি না। সেই উত্তর পেতে উদ্ধারকারী দলের তল্লাশি এখনও চলছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।