শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শীতের প্রথম দাপট অনুভূত হচ্ছে। তীব্র ঠান্ডার চাপে কমেছে তাপমাত্রা, সঙ্গে হিমেল বাতাস যেন কাঁপিয়ে দিচ্ছে জনজীবন। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা সহ বেশ কিছু জেলায় ঠান্ডার প্রকোপ আরও বাড়বে।
কলকাতার পারদ পতন: মাত্র ৩ দিনে বড় পরিবর্তন
কলকাতার আবহাওয়ার পারদ গত ৩ দিনে হঠাৎ করেই বেশ খানিকটা নেমে গেছে। মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি কমে গেছে। বর্তমানে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রির কাছাকাছি রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
শৈত্যপ্রবাহের চরম সতর্কতা
পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে শৈত্যপ্রবাহের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ জেলায় পারদ ইতিমধ্যেই ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে গেছে। আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এই এলাকাগুলিতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে।
শীতের দাপটে শুষ্ক আবহাওয়া
শীতের প্রভাবে রাজ্যজুড়ে এখন শুষ্ক এবং পরিষ্কার আবহাওয়া বিরাজ করছে। দিনের বেলায় রোদ ঝলমলে আকাশ দেখা গেলেও, ভোরবেলা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে চারপাশ। আবহাওয়া দফতরের মতে, আপাতত রাজ্যের কোথাও বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে শীতের প্রকোপ আরও বেশি। দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের পূর্বাভাস
কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার দেখা মিলতে পারে। তাপমাত্রার পতন আগামী কয়েক দিন ধরে অব্যাহত থাকবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, রবিবার পর্যন্ত শীতের এই প্রবণতা বজায় থাকবে। আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কিছুটা নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি
দার্জিলিং এবং সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ঠান্ডার প্রকোপ আরও তীব্র। পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণকারীদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের জন্য বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং শিশুদের সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গরম পোশাক, গরম পানীয় এবং সঠিক হিটার ব্যবহারের মাধ্যমে শীতের মোকাবিলা করা যাবে।
শীতের এই তীব্রতা থেকে সাধারণ মানুষ যেন সতর্ক থাকে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়, সে বিষয়ে জোর দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। শৈত্যপ্রবাহের এই সময়ে ঠান্ডার হাত থেকে সুরক্ষিত থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।