ফুসফুসের যত্ন
শীতের সময়ে আমাদের শারীরিক অবস্থা বিভিন্ন কারণে আরও খারাপ হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে। এই সময় ফুসফুসের সমস্যা অনেক বেড়ে যায়। শীতকাল, যেখানে ঠাণ্ডা আর আর্দ্রতার প্রভাব বেশি থাকে, সেখানে ফুসফুসের সংক্রমণ বা রোগের প্রকোপ বাড়ে। এর অন্যতম প্রধান কারণ বায়ুদূষণ, যা শীতকালে আরও মারাত্মক হতে পারে। এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানিয়েছেন এইচপি ঘোষ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক সুকুমার মুখোপাধ্যায়।
অধ্যাপক সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, “শীতকালে ফুসফুসের রোগের প্রকোপ বাড়ে। তবে শুধু বায়ুদূষণই এর একমাত্র কারণ নয়, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, এবং বাইরে কাজ করতে যাওয়া এসবও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এছাড়া, সম্প্রতি একটি নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়েছে, যাকে ‘আরএসবি’ ভাইরাস বলা হয়। এই ভাইরাসের টিকাকরণ আমাদের দেশে এখনো শুরু হয়নি, তবে কিছু বিদেশী দেশে এর টিকাকরণ শুরু হয়েছে।”
ফুসফুসের রোগের ক্ষেত্রে, বিশেষত শীতকালে বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হন। কারণ, তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে এবং শীতকালে নানা ধরনের ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হতে থাকে। সুকুমার মুখোপাধ্যায় আরও বলেন, “বয়স্কদের জন্য শীতকালে ফুসফুসের রোগগুলির প্রাদুর্ভাব অনেক বেড়ে যায়। তাই তাদের বিশেষভাবে সাবধানে থাকতে হয়।”
একইভাবে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেন, তাদের জন্যও শীতকাল বেশ বিপজ্জনক হতে পারে। ধূমপানের কারণে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, বিশেষত শীতকালে যেহেতু ঠাণ্ডা বাতাসে ফুসফুসের উপর চাপ পড়ে। “ধূমপায়ীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করা উচিত। সময়মতো ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি,” বলেন সুকুমার মুখোপাধ্যায়।
তবে শুধু ধূমপায়ী বা বয়স্কদের জন্য নয়, যাদের ইমিউনিটি কম বা ডায়াবেটিসের মতো রোগ রয়েছে, তাদের জন্যও শীতকাল আরও ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময় তাদের বিশেষভাবে সাবধান থাকা উচিত। কারণ, শীতকালেই ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “তাদের উচিত, শীতকালেই যেন ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন নেওয়া হয়। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের শীতকালে ঘরের বাইরে বেশি না যাওয়ার পরামর্শ দিই। বিশেষত, যেসব ব্যক্তি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বা হৃদরোগে আক্রান্ত, তাদের শীতকালে একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে।”
শীতকালে ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষায় কিছু সাধারণ পরামর্শও দিয়েছেন সুকুমার মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার সময় মুখে মাস্ক পরুন, বিশেষ করে যদি বায়ুদূষণ থাকে। হালকা গরম জল পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং যথাযথ পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে।”
শীতকাল মানেই শারীরিক সমস্যার বৃদ্ধি, তবে সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলে অনেকাংশে এর প্রভাব কমানো সম্ভব। বিশেষ করে, ফুসফুসের সমস্যা এড়াতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক জীবনযাপন এবং রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
4o mini