শিন্দে–শরদ বৈঠক ঘিরে মহারাষ্ট্রে বিরোধী জোটে অস্বস্তি!
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনা প্রধান একনাথ শিন্দের সঙ্গে এনসিপি (এসপি) প্রতিষ্ঠাতা শরদ পওয়ারের বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। মহাবিকাশ আঘাড়ী (এমভিএ)-র অন্যতম শরিক উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রকাশ্যে এই বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলে শরদ পওয়ারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কটাক্ষ করেছে। এর পাল্টা জবাব দিয়েছে শরদপন্থী এনসিপিও।
বুধবার মুম্বইয়ের বিধানসভা ভবনে উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের দফতরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন শরদ পওয়ার। এই বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার শিবসেনা (ইউবিটি)-র সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, এই সাক্ষাৎ বিরোধী জোটের কর্মী-সমর্থকদের মনে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর অভিযোগ, শিন্দের মতো ‘বিশ্বাসঘাতকের’ দফতরে গিয়ে বৈঠক করা রাজনৈতিকভাবে ভুল বার্তা দেয় এবং এতে শরদ পওয়ারের দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রাউত আরও দাবি করেন, মহাবিকাশ আঘাড়ীর শরিকদের অনুভূতির কথা ভেবেই তাঁরা কখনও অজিত পওয়ারের দফতরে গিয়ে বৈঠক করেননি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক মতভেদের পর যাঁরা দল ভেঙেছেন, তাঁদের সঙ্গে এভাবে সাক্ষাৎ করা উচিত নয়।
শুধু উদ্ধবসেনাই নয়, কংগ্রেসও এই বৈঠককে ঘিরে কটাক্ষ করেছে। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চহ্বাণ মন্তব্য করেন, শরদ পওয়ারের দলের কয়েকজন বিধায়ক অন্য শিবিরে যেতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। যদিও এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপি (এসপি)-র নেতা জয়ন্ত পাটিল। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁদের দলের সাংসদ ও বিধায়কেরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন এবং দল ভাঙার কোনও প্রশ্নই নেই।
এনসিপি (এসপি)-র তরফে জানানো হয়েছে, এই বৈঠক ছিল এলাকার উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। একে রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে জড়িয়ে দেখা ঠিক নয়। দল আরও মনে করিয়ে দিয়েছে, উদ্ধব ঠাকরে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন শরদ পওয়ারও তাঁর সরকারি দফতরে গিয়ে বৈঠক করেছিলেন। তখন এ নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি।
২০২২ সালে একনাথ শিন্দে বিজেপির সমর্থনে শিবসেনা ভেঙে উদ্ধব ঠাকরের সরকার ফেলে দেন। পরে তিনি শিবসেনার নাম ও নির্বাচনী প্রতীকও নিজেদের দখলে আনেন। অন্যদিকে ২০২৩ সালে শরদ পওয়ারের ভাইপো অজিত পওয়ারও এনসিপির বড় অংশ নিয়ে বিজেপি-সমর্থিত জোটে যোগ দেন এবং দলের নাম ও প্রতীক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। এই রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণেই শরদ–শিন্দে বৈঠককে ঘিরে বিরোধী শিবিরে নতুন করে সন্দেহ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে শরদ পওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলের পরিবারে সাম্প্রতিক এক বিবাহ অনুষ্ঠানেও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। যদিও এনসিপি (এসপি) স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা প্রশাসনিক বৈঠককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে, শরদ পওয়ার ও একনাথ শিন্দের এই সাক্ষাৎ মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোটের অন্দরে মতপার্থক্যকে সামনে এনে দিয়েছে। বৈঠকটি শুধুই প্রশাসনিক প্রয়োজন ছিল, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে— তা নিয়ে আলোচনা আপাতত অব্যাহত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?