Friday, April 4, 2025

শান্তির ডাকের মাঝেই যুদ্ধের ছায়া: ইউক্রেন সেনাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ পুতিনের, ক্ষুব্ধ ইউরোপ

Share

শান্তির ডাকের মাঝেই যুদ্ধের ছায়া!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পূর্ব ইউরোপে শান্তি ফেরানোর জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছেন, তখনই নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার কুর্স্ক শহরে অবস্থানরত ইউক্রেন সেনাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি এই ঘোষণায় ক্ষুব্ধ। একইসঙ্গে, ইউরোপের দেশগুলোও পুতিনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাঝেই পুতিনের কড়া বার্তা

সম্প্রতি আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। শুরুতে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তোলা হয়। কিন্তু সেই আলোচনার মাঝেই পুতিনের নতুন এই নির্দেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির দাবি, পুতিন ইচ্ছাকৃতভাবেই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করতে চাইছেন। তবে ট্রাম্প এখনো পুতিনের প্রতি আস্থা রাখছেন। কুর্স্কে আটকে পড়া ইউক্রেনের সেনাদের হত্যা না করার জন্য রুশ প্রেসিডেন্টকে অনুরোধও করেছেন তিনি।

কুর্স্কে চরম উত্তেজনা, আশঙ্কায় ইউক্রেন ও বিশ্ব

গত বছরের আগস্টে ইউক্রেন বাহিনী রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্ত পেরিয়ে কুর্স্কে প্রবেশ করে এবং কিছু অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রুশ সেনারা কুর্স্কে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। শহরটির চারপাশে ইউক্রেনের সেনাদের ঘিরে ফেলেছে রাশিয়ার বাহিনী।

জেলেনস্কি ও ট্রাম্প উভয়েই কুর্স্কের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “হাজার হাজার ইউক্রেনীয় সেনা কুর্স্কে আটকে পড়েছে। আমি পুতিনকে অনুরোধ করেছি যেন তাদের হত্যা করা না হয়। যদি তা হয়, তবে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যার উদাহরণ হয়ে উঠবে।”

ইউরোপের কড়া প্রতিক্রিয়া

পুতিনের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। ব্রিটেন ও ফ্রান্স সরাসরি এই নির্দেশের বিরোধিতা করেছে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তির জন্য চেষ্টা করছেন, কিন্তু পুতিন সেটা নিয়ে ছেলেখেলা করছেন। আমরা এটি কোনোভাবেই হতে দিতে পারি না।”

ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ এর আগেও পুতিনের অবস্থানের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আলোচনা এবং বাদানুবাদের পর, ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ প্রকাশ্যে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটেন এবং ফ্রান্স ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা পাঠানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে।

শান্তির পথ, না আরও সংঘাত?

পুতিন জানিয়েছেন যে, তিনি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আগ্রহী, তবে শর্ত একটাই— ইউক্রেন সেনারা কুর্স্কে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কিন্তু জেলেনস্কি এই শর্ত মানতে নারাজ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধ কি আরও দীর্ঘ হবে, নাকি ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাধ্যমে শান্তির কোনো সম্ভাবনা তৈরি হবে? আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল এখনো এর উত্তরের অপেক্ষায়।

দোলে তারকাদের মতো সাজুন: রঙের উৎসবে ফ্যাশনের ছোঁয়া

Read more

Local News