বাবার উপদেশেই এগোচ্ছেন বৈভব সূর্যবংশী!
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আইপিএলে ঝড় তুলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। ব্যাট হাতে একের পর এক রেকর্ড গড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের জয়কেই বেশি গুরুত্ব দেন এই তরুণ ব্যাটার। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এলিমিনেটরে দুরন্ত ৯৭ রানের ইনিংস খেলেও শতরান থেকে মাত্র তিন রান দূরে থেমে যেতে হয়েছিল তাঁকে। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছিল বৈভব, কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে বাবার একটি মূল্যবান উপদেশ।
হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রাজস্থান রয়্যালসের গুরুত্বপূর্ণ জয়ে বড় ভূমিকা ছিল বৈভবের। মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় দেখাচ্ছিল প্রতিপক্ষ বোলারদের। তবুও শতরান না পাওয়ার কষ্ট ছিল। কিন্তু পরে নিজেকে সামলে নিয়েছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে বৈভব জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর বাবা তাঁকে একটি কথা বারবার শিখিয়েছেন— ক্রিকেটে ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে দলের জয় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বৈভব বলেন, “বাবা সবসময় বলেছেন, আমি শতরান, দ্বিশতরান বা ত্রিশতরান যা-ই করি না কেন, যদি দল না জেতে তাহলে সেই রানের কোনও মূল্য নেই। ব্যক্তিগত রেকর্ড ভালো, কিন্তু দলকে জেতাতে না পারলে তার গুরুত্ব কমে যায়।”
তাঁর মতে, ক্রিকেট মূলত দলগত খেলা। তাই ৮০ রান করে দলকে জেতানো, শতরান করেও হেরে যাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। এই দর্শনই তাঁকে প্রতিটি ম্যাচে চাপমুক্ত থেকে খেলতে সাহায্য করে।
প্লে-অফে ওঠার পর দলের তরফ থেকেও বিশেষ কোনও আলাদা নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বৈভব। তবে কোচিং স্টাফের মূল বার্তা ছিল, যত বেশি সময় সম্ভব উইকেটে থেকে ম্যাচকে গভীর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। বৈভবের কথায়, “ক্রিজে যত বেশি সময় থাকব, দলের জয়ের সম্ভাবনাও তত বাড়বে। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত রেকর্ডও আসতে পারে। কিন্তু প্রথম লক্ষ্য সবসময় দলের সাফল্য।”
হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর ৯৭ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১২টি বিশাল ছক্কা। চলতি মরসুমে তাঁর ব্যাটে এসেছে ধারাবাহিক রান। ১৫ ম্যাচে ৬৮০ রান করে তিনি কমলা টুপির দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। শুধু তাই নয়, এক মরসুমে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার আইপিএল রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে। এখনও পর্যন্ত ৬৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই কিশোর তারকা।
এখন বৈভবের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। শতরান হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ ভুলে বাবার শেখানো মন্ত্রই সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত রাজস্থানের এই তরুণ সেনসেশন। তাঁর লক্ষ্য একটাই— দলকে জিতিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?