কে এই প্রশান্ত কিশোরের চিকিৎসক-স্ত্রী জাহ্নবী দাস?
প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনের পর আলোচনায় উঠে এসেছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জাহ্নবী দাসও। চিকিৎসক হিসেবে নিজের পেশাগত পরিচয় বজায় রেখেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ স্বামী প্রশান্ত কিশোরের থেকেও বেশি, যা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহল তৈরি করেছে।
অসমের গুয়াহাটিতে বেড়ে ওঠা জাহ্নবী দাস চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জনের পর স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পেশাগত জীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে বিভিন্ন বিশেষ প্রকল্পের সিনিয়র পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন। রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও, জনস্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজই তাঁকে নিজস্ব পরিচিতি এনে দিয়েছে।
প্রশান্ত কিশোরের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, জাহ্নবীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০১.৯৩ কোটি টাকা, যেখানে প্রশান্তের সম্পদের পরিমাণ ৯৬.০৬ কোটি টাকা। জাহ্নবীর অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৮৯.৫১ কোটি টাকা, আর স্থাবর সম্পত্তি প্রায় ১২.৪২ কোটি টাকা। এছাড়া তাঁর নামে ১ কোটিরও বেশি টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ রয়েছে এবং প্রায় ৬৪ লক্ষ টাকার সোনার অলঙ্কারও রয়েছে।
মজার বিষয় হল, শতকোটির সম্পত্তির মালিক হলেও তাঁর নামে কোনও ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। হলফনামা অনুযায়ী, চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরামর্শদানের পাশাপাশি ব্যাংকের আমানত ও ভাড়ার আয় থেকেই তাঁর আয়ের বড় অংশ আসে।
প্রশান্ত কিশোর ও জাহ্নবীর পরিচয় রাজনীতির মাধ্যমে নয়, বরং একটি রাষ্ট্রপুঞ্জ পরিচালিত জনস্বাস্থ্য প্রকল্পে কাজ করার সময়। সহকর্মী হিসেবে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, পরে প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত বিবাহ— এভাবেই গড়ে ওঠে তাঁদের সম্পর্ক। বর্তমানে তাঁদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
জাহ্নবী দাস সাধারণত জনসমক্ষে খুব কমই আসেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় নন। তবে প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি নীরবে পাশে থেকেছেন। বাঁকিপুরে জন সুরাজ পার্টির জয়ের পর তাঁর নাম নতুন করে আলোচনায় এলেও, ভবিষ্যতে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে আসবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।