Friday, April 4, 2025

লোকসভায় শূন্য, বিধানসভায় শূন্য—এবার রাজ্যসভাতেও সিপিএম শূন্য! বাংলার বামপন্থার ভবিষ্যৎ কী?

Share

এবার রাজ্যসভাতেও সিপিএম শূন্য! বাংলার বামপন্থার ভবিষ্যৎ কী?

পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশ রাজনীতির মানচিত্র বদলাচ্ছে। একসময়ের প্রভাবশালী দল সিপিএম (ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি – মার্ক্সবাদী) আজ অস্তিত্ব সংকটে। ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় তারা শূন্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য, এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্যসভাতেও শূন্য হয়ে যাবে সিপিএম

আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্যসভার পাঁচটি আসনে নির্বাচন হবে। এই পাঁচটি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের চারজনের (সুব্রত বক্সী, মৌসম বেনজির নূর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাকেত গোখলে) মেয়াদ শেষ হচ্ছে। একইসঙ্গে সিপিএমের একমাত্র রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মেয়াদও শেষ হবে। কিন্তু বিধানসভায় কোনও প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সিপিএম এবার আর কাউকে রাজ্যসভায় পাঠাতে পারবে না। ফলে সেই আসন পাবে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি


কীভাবে ধাপে ধাপে শূন্যে পৌঁছাল সিপিএম?

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থানের পর থেকেই বামেদের শক্তিক্ষয় শুরু হয়। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ৬২টি আসন পেলেও, ধীরে ধীরে সেই সংখ্যাটা কমতে থাকে। এর ফলে রাজ্যসভায় তাদের আসন সংখ্যাও কমতে শুরু করে।

  • ২০১১ সালে সিপিএমের হয়ে রাজ্যসভায় যান সীতারাম ইয়েচুরি।
  • ২০১২ সালে কেবল একজনকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সুযোগ পায়, সিটু নেতা তপন সেন মনোনীত হন।
  • ২০১৪ সালে তুলনামূলক তরুণ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়, কিন্তু ২০১৭ সালে দল তাঁকে বহিষ্কার করে।
  • ২০১৮ সালে তপন সেনের মেয়াদ শেষ হলে সিপিএম বাংলা থেকে রাজ্যসভায় পুরোপুরি শূন্য হয়ে যায়
  • ২০২০ সালে কংগ্রেসের সহযোগিতায় বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য রাজ্যসভায় যান।
  • ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিকাশরঞ্জনের মেয়াদ শেষ হবে, এবং সিপিএম ফের রাজ্যসভায় শূন্য হয়ে যাবে

কংগ্রেস-সিপিএম জোটও ব্যর্থ, বিজেপির উত্থান

২০১৬ সালে কংগ্রেস-বামফ্রন্টের জোট কিছুটা সাফল্য পেলেও, পরে অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে সেই জোট ভেঙে যায়। কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক ও বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান একসময় সিপিএমকে রাজ্যসভায় একটি আসন দিতে রাজি করান। সেই কারণে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সাংসদ হয়েছিলেন। কিন্তু বিধানসভায় এখন সিপিএম বা কংগ্রেসের কোনও শক্তি নেই, ফলে আগামী বছর তারা রাজ্যসভায়ও কোনও আসন পাবে না

অন্যদিকে, বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে শক্তি বাড়িয়েছে। তারা ইতিমধ্যে অনন্ত মহারাজ ও শমীক ভট্টাচার্যকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে, এবং আগামী বছর বিকাশরঞ্জনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও একজন বিজেপি সাংসদ রাজ্যসভায় বসবেন।


সিপিএম কি ফিরতে পারবে?

সিপিএমের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে অনেকে বলছেন, দলটির বাংলায় আর ভবিষ্যৎ নেই। তবে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য মনে করেন, “এটি সংসদীয় রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। সময়ের সঙ্গে হার-জিত হয়। বামেরা আবার ঘুরে দাঁড়াবে।”

কিন্তু বাস্তবতা হলো, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং রাজ্যসভায়ও শূন্য হয়ে যাওয়া—এসবই প্রমাণ করছে যে, বাংলার রাজনীতিতে বামেদের অবস্থান তলানিতে ঠেকেছে।

আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। তৃণমূল, বিজেপি এবং কংগ্রেস যেখানে ভোটের লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে সিপিএম কী করবে? তারা কি পুরনো শক্তি ফিরে পাবে, নাকি বাংলার রাজনীতি থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাবে? ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

প্রেমের ইঙ্গিত না গোপন বার্তা? দেবচন্দ্রিমার ‘জিবলি’ ছবিতে রহস্যময় প্রেমিক!

Read more

Local News