শরীরের কথা শুনেই বড় সিদ্ধান্ত রশিদের!
আইপিএলের মাঝেই এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেন আফগানিস্তানের তারকা স্পিনার Rashid Khan। দিল্লির বিরুদ্ধে দুর্দান্ত স্পেল করে ম্যাচ জেতানোর পর তিনি জানালেন—দেশের হয়ে হয়তো আর টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন না। মূল কারণ? শরীর আর সায় দিচ্ছে না।
💬 ম্যাচ জয়ের পরেই খোলামেলা স্বীকারোক্তি
সম্প্রতি Indian Premier League-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রশিদ। সেখানেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন।
তিনি বলেন,
“লাল বলের ক্রিকেট খেলা এখন আমার জন্য খুব কঠিন। চিকিৎসকও পরামর্শ দিয়েছেন, এটা থেকে দূরে থাকতে।”
⚠️ চোটই বদলে দিল ভাবনা
রশিদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাঁর পুরনো চোটের ইতিহাস। পিঠের অস্ত্রোপচারের পরও তিনি টেস্ট খেলেছিলেন। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এক ম্যাচে তিনি ৬৭ ওভার বল করেন—যা তাঁর শরীরের উপর মারাত্মক চাপ ফেলে।
এই ঘটনাতেই ক্ষুব্ধ হন তাঁর চিকিৎসক। রশিদ নিজেই জানান,
“ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন—‘তুমি কি পাগল? যদি দীর্ঘদিন খেলতে চাও, তাহলে টেস্ট এড়িয়ে চল।’”
এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন তিনি।
🇮🇳 ভারত সফরেও অনিশ্চয়তা
আগামী জুনে Afghanistan national cricket team-এর ভারতের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা। তবে সেই ম্যাচে রশিদের অংশগ্রহণ এখন প্রশ্নের মুখে।
তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, টেস্ট ক্রিকেট খেলতে তাঁর ভালো লাগে, কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে।
⚪ সাদা বলেই ফোকাস
রশিদ এখন নিজের কেরিয়ার দীর্ঘায়িত করার দিকে মন দিয়েছেন। তাই আপাতত তিনি সাদা বলের ক্রিকেট—ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতেই মনোযোগ দিতে চান।
তিনি বলেন,
“দুই ইনিংস মিলিয়ে ১২৬ ওভার বল করেছি শেষ দুই টেস্টে—যা প্রায় ১২টা এক দিনের ম্যাচের সমান! তাই এখন সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই ফোকাস করছি।”
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপই এখন তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
🔥 আইপিএলে ফর্মে ফেরা
দু’মাস বিরতির পর আইপিএলে ফিরেছিলেন রশিদ। প্রথম দু’টি ম্যাচে খুব একটা প্রভাব ফেলতে না পারলেও, দিল্লির বিরুদ্ধে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে আবার নিজের ছন্দের ঝলক দেখিয়েছেন।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার—এবং তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেটাই প্রমাণ করছে।
📝 শেষ কথা
রশিদ খানের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন আফগান ক্রিকেটের জন্য ধাক্কা, তেমনই তাঁর কেরিয়ার বাঁচানোর জন্য অত্যন্ত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।
সব খেলোয়াড়েরই একটা সময় আসে, যখন নিজের শরীরের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রশিদও সেই পথেই হাঁটলেন—হয়তো টেস্ট থেকে দূরে সরে গিয়ে আরও অনেক বছর সাদা বলের ক্রিকেটে জাদু দেখানোর জন্য।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?