লরিচালককে ছুরি!
২০১৭ সালের ৩১ অগস্ট উল্টোডাঙা থানা এলাকায় লরিচালক কল্যাণ যাদবের ওপর লুটপাট ও হামলার ঘটনায় শিয়ালদহের প্রথম ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক মৃণালকান্তি মণ্ডল এক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। অভিযুক্ত মুমতাজ হোসেনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করা হবে। তবে এই মামলার আর এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
ঘটনার বিবরণ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অগস্ট গভীর রাতে লরিচালক কল্যাণ যাদব কাঠ নিয়ে খিদিরপুর থেকে বেলগাছিয়ার একটি গুদামে যাচ্ছিলেন। বেলগাছিয়া সেতুতে তিনি মুমতাজ এবং আর এক ব্যক্তির কাছে গুদামের রাস্তা জানতে চান। তারা প্রথমে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দেন। পরে ফের সেতুতে ফিরে এলে গুদাম দেখানোর অজুহাতে তারা লরিতে ওঠে।
এরপর মুমতাজ ও তার সঙ্গী চালককে ছুরি দেখিয়ে লুটপাটের চেষ্টা করে। কল্যাণ বাধা দিলে তাঁর পেটে এবং হাতে ছুরি মারা হয়। তারপর তাঁর কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পারিবারিক ছবি ও অন্যান্য জিনিস লুট করে পালায় তারা। আহত অবস্থায় কল্যাণকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তদন্ত ও গ্রেফতার
উল্টোডাঙা থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। প্রায় দুই মাস পর, ২০ অক্টোবর মুমতাজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে কল্যাণ যাদবের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পারিবারিক ছবি উদ্ধার করা হয়।
সাক্ষ্যপ্রমাণ ও বিচার
সরকারি আইনজীবী বরুণ দত্ত জানান, মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মুমতাজকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে, দ্বিতীয় অভিযুক্ত এখনও পলাতক।
সাজা ঘোষণা
মুমতাজ হোসেনের সাজা ঘোষণার দিন ঠিক হয়েছে মঙ্গলবার। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপসংহার
এটি স্পষ্ট যে, লরিচালক কল্যাণ যাদবের ওপর আক্রমণ এবং লুটপাট ছিল পূর্বপরিকল্পিত। আদালতের এই রায় আইনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াবে। তবে, পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।