রোনাল্ডোকে আনবই, মেসিও আবার আসবেন— শুধু অরূপ বিশ্বাস যেন না থাকেন!
লিওনেল মেসিকে কলকাতায় এনে গত বছর তুমুল আলোড়ন ফেলেছিলেন উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। কিন্তু সেই স্বপ্নের আয়োজন শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিল বিশৃঙ্খলা, বিতর্ক এবং তাঁর নিজের গ্রেফতারে। প্রায় পাঁচ মাস পর মুখ খুলে তিনি সরাসরি দায় চাপালেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রশাসনের উপর।
আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শতদ্রু দাবি করেছেন, যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানে এমন বহু লোক মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন, যাঁদের থাকার কোনও অনুমতিই ছিল না। তাঁর কথায়, “মেসিকে মাঠে নিয়ে ঢুকেই বুঝেছিলাম পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে। অন্তত ১০০-১২০ জন অননুমোদিত ব্যক্তি মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ ধাক্কাধাক্কি করছেন। মেসি খুব বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, মেসির ম্যানেজার বারবার জানতে চাইছিলেন, অনুমতি ছাড়া এত লোক মাঠে ঢুকলেন কী করে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত মেসির টিম মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
শতদ্রুর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে অরূপ বিশ্বাস। তাঁর দাবি, নির্ধারিত তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী মাঠে ঢুকে মেসির সঙ্গে ছবি তুলতে শুরু করেন। “মেসির কাঁধ জড়িয়ে ছবি তোলা হয়েছিল, যা ওঁদের টিম ভাল ভাবে নেয়নি। ওঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ইনি কে? কেন এখানে?”— বলেন শতদ্রু।
শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেওয়ার জন্য তাঁর উপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। শতদ্রুর দাবি, তাঁর টিমের কয়েক জনকে নাকি একটি ঘরে আটকে রেখে বাড়তি কার্ড অনুমোদনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। অথচ শেষ পর্যন্ত যাঁরা মাঠে ঢুকেছিলেন, তাঁদের অনেকের কাছেই কোনও বৈধ কার্ড ছিল না।
তবে শুধু অরূপ বিশ্বাস নন, পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকাও কাঠগড়ায় তুলেছেন উদ্যোক্তা। তাঁর বক্তব্য, “আমি বারবার পুলিশকে বলেছিলাম মাঠ খালি করতে। কিন্তু কেউ শুনল না। এটা জেড-প্লাস নিরাপত্তার ইভেন্ট ছিল। তবু সব কিছু ভেঙে পড়েছিল।”
ঘটনার পর নাটকীয় ভাবে বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শতদ্রুর দাবি, তাঁকে জোর করে দায় স্বীকার করানোর চেষ্টা হয়েছিল। “মেসির টিম পর্যন্ত বলেছিল, আমার দোষ কোথায়? কিন্তু কাউকে তো বলির পাঁঠা করতে হত,” বলেন তিনি।
৩৮ দিন পুলিশ হেফাজতে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়েও মুখ খুলেছেন শতদ্রু। জানিয়েছেন, সেই সময়ে সরকারের তরফে কেউ যোগাযোগ করেননি। তবে বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর আস্থা ছিল বলেই দাবি করেছেন তিনি।
সব বিতর্কের মাঝেও ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগ অটুট। সাক্ষাৎকারের শেষে শতদ্রু বলেন, “রোনাল্ডোকেও আনব, মেসিকেও আবার কলকাতায় ফেরাব। শুধু একটা জিনিস চাই— অরূপ বিশ্বাস যেন আর না থাকেন।”
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা