রেলের ১,০০০ হেক্টরের বেশি জমি এখনও দখলদারদের কবজায়!
ভারতীয় রেলের বিপুল পরিমাণ জমি এখনও বেআইনি দখলের কবলে। তথ্যের অধিকার (আরটিআই) আইনের আওতায় প্রকাশিত রেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেলের ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি অবৈধ দখলে ছিল। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, জমি দখলমুক্ত করার চেয়ে নতুন করে দখল হয়ে যাওয়ার হারই অনেক বেশি, যা রেলের কাছে বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি একটি আরটিআই আবেদনের জবাবে রেল বোর্ড গত পাঁচ বছরের জমি দখলের তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, ২০২০-২১ সালে রেলের ৮১০.৩১ হেক্টর জমি দখল হয়ে ছিল। পরের বছর তা কিছুটা কমে ৭৮২.৮১ হেক্টর হলেও, এরপর থেকে পরিস্থিতি আবার খারাপ হতে শুরু করে।
২০২২-২৩ সালে দখল হওয়া জমির পরিমাণ ফের ৮০০ হেক্টর ছাড়িয়ে যায়। আর ২০২৩-২৪ সালে তা এক ধাক্কায় বেড়ে ১,০৭৮.৫৫ হেক্টরে পৌঁছয়। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের মধ্যে প্রায় ২৬৮ হেক্টর জমি নতুন করে অবৈধ দখলের আওতায় চলে যায়। যদিও ২০২৪-২৫ সালে সেই সংখ্যা সামান্য কমে ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর হয়েছে, তবুও পাঁচ বছরে মোট দখল হওয়া জমির পরিমাণ প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংসদে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে রেল মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করতে পেরেছে। ফলে যতটা জমি উদ্ধার হয়েছে, তার তুলনায় অনেক বেশি জমি নতুন করে বেহাত হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতীয় রেলের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর। এর মধ্যে ০.২১ শতাংশ জমি বর্তমানে বেআইনি দখলে রয়েছে। শতাংশের হিসেবে তা কম মনে হলেও, বাস্তবে এই জমির পরিমাণ অত্যন্ত বড়। তুলনা করলে দেখা যায়, গুজরাতের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের আয়তন প্রায় ২৫.৫ হেক্টর। সেই হিসেবে বর্তমানে দখল হয়ে থাকা রেলের জমিতে প্রায় ৪২টি নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম তৈরি করা সম্ভব।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেলের জমি দখলমুক্ত করার জন্য উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। তবে আরটিআই-এর তথ্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, অবৈধ দখল রুখতে এবং রেলের সম্পত্তি উদ্ধার করতে এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। প্রশাসনিক উদ্যোগ সত্ত্বেও দখলমুক্ত করার গতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?