Friday, April 4, 2025

রেড রোডে ইদের নমাজে মমতা ও অভিষেক: সম্প্রীতির আহ্বান ও হুঁশিয়ারি

Share

রেড রোডে ইদের নমাজে মমতা ও অভিষেক!

প্রতি বছরের মতো এবারও কলকাতার রেড রোডে বিশাল জনসমাগমে অনুষ্ঠিত হলো ইদের নামাজ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথারীতি এই নামাজে যোগ দেন, তবে এবারের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে চলতে থাকা নানা জল্পনার মাঝে দু’জনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে হাঁফ ছেড়েছে শাসক দলের একাংশ।

সোমবার সকাল ৯টা নাগাদ রেড রোডে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মন্ত্রী জাভেদ খান। ইদের নামাজের পর সংক্ষিপ্ত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রীতির বার্তা দেন। তিনি বলেন, “ধর্মকে বিভেদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। সকল ধর্মকে আমি সমানভাবে শ্রদ্ধা করি। বাংলার মাটিতে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”

‘দিদি আছেন, ভয় নেই!’

মমতার বক্তব্যের মধ্যেই উঠে আসে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ। নাম না করেই তিনি বিজেপি ও বাম দলগুলোর দিকে আঙুল তুলে বলেন, “কেউ কেউ ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়। উৎসবের সময় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু মনে রাখবেন, দিদি আছেন! কেউ বিশৃঙ্খলা করলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “ধর্মের নামে বিভেদ তৈরি করা হচ্ছে, মানুষকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলার মানুষ সম্প্রীতি ও ভালোবাসার পথে থাকবেন। কেউ গোলমাল পাকাতে এলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

রাজনৈতিক বার্তা ও শক্তিশালী অবস্থান

ইদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর লন্ডন সফরের একটি অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিদেশে থাকাটা আমার জন্য জরুরি নয়, বরং আমার মানুষের পাশে থাকা জরুরি। তাই ইদের আনন্দ ভাগ করে নিতে ফিরে এসেছি।”

এছাড়া, তাঁর সাম্প্রতিক অক্সফোর্ড সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “আপনি কি হিন্দু?” উত্তরে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমি হিন্দু, আমি মুসলিম, আমি শিখ, আমি খ্রিস্টান—আমি এক জন ভারতীয়!”

রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়?

গত কয়েক মাস ধরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। কখনও তাঁর দূরত্ব তৈরি হওয়া, আবার কখনও মমতার প্রকাশ্য ঘোষণায় দলের একমাত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা—এসব নিয়ে দলে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। কিন্তু রেড রোডের ইদের অনুষ্ঠানে অভিষেকের উপস্থিতি সেই সমীকরণ মসৃণ করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিনের এই জনসমাগম শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনেরও এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছিল। ইদের দিন সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা ও অভিষেক—যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চালচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইদের খুশিতে সম্প্রীতির বার্তা

ইদ মানেই আনন্দ, উদযাপন, নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার, এবং আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়। তবে রেড রোডের এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি হয়ে উঠেছিল সম্প্রীতি, শান্তি ও রাজনৈতিক শক্তির এক অনন্য প্রতীক।

শেষ পর্যন্ত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—“বাংলার মাটি সম্প্রীতির, এখানে বিভেদ সৃষ্টি করার কোনো জায়গা নেই।” তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যেই যেন প্রতিফলিত হলো বাংলার বহুত্ববাদী সংস্কৃতির মূল সুর।

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পের তাণ্ডব! সুনামির আশঙ্কা

Read more

Local News