রাধিকা মার্চেন্টের মঙ্গলসূত্র
ভারতীয় বিবাহিত মহিলাদের জন্য মঙ্গলসূত্র পরা এক অদৃশ্য ঐতিহ্য, যা অনেক পরিবারে বিয়ের পরের এক বছর পর্যন্ত খুলতে নিষেধ করা হয়। তবে আধুনিক যুগে এই মঙ্গলসূত্রের রূপ বদলেছে, বিশেষ করে যখন ধনী এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা তাদের এই ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। এরই মধ্যে মুকেশ অম্বানীর পরিবারের সদস্য রাধিকা মার্চেন্ট তার মঙ্গলসূত্রকে এক নতুন ফ্যাশন স্টেটমেন্টে পরিণত করেছেন।
রাধিকা মার্চেন্ট, যিনি সম্প্রতি মুকেশ অম্বানীর ছোট ছেলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঙ্গলসূত্র পরতে দেখা গেছে। তবে, সম্প্রতি তিনি তার মঙ্গলসূত্রটি গলায় না পরে, বরং একটি নতুন ধরনের ফ্যাশন হিসেবে তা হাতে পরেছিলেন। এই নতুন স্টাইলটি এক মুহূর্তে নেটিজেনদের নজর কাড়ে, এবং রাধিকা তার আধুনিক রূপে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।
রাধিকার ফ্যাশন স্টাইল
রাধিকা যখন অম্বানী পরিবারের ক্যাফে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, তখন তিনি ফরাসি ব্র্যান্ড ডিওরের একটি কালো ফ্রক পরেছিলেন। এই পোশাকটির গলা ছিল অনেকটা নীচু পর্যন্ত নামানো। এই পশ্চিমী স্টাইলে সাজানো রাধিকা তার মঙ্গলসূত্রটি গলায় না পরে, তা হাতে পরেছিলেন। তাঁর হাতে থাকা মঙ্গলসূত্রটি একটি ব্রেসলেটের মতো, যা প্রজাপতির মতো দেখতে একটি হিরের লকেট দিয়ে সাজানো ছিল।
এই অভিনব ফ্যাশন স্টাইলের জন্য রাধিকার স্টাইলিস্ট ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী সোনম কপূরের বোন রিয়া কপূর। রিয়া ইনস্টাগ্রামে রাধিকার ছবিটি শেয়ার করে তার স্টাইল এবং মঙ্গলসূত্রের নতুন ধরনকে প্রশংসা করেছেন।

ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফ্যাশন
ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে, বিশেষ করে বাঙালি সংস্কৃতিতে, মঙ্গলসূত্র পরা একটি গভীর ঐতিহ্য। অনেক পরিবারের নিয়ম রয়েছে, যে বিয়ের পর এক বছর পর্যন্ত মঙ্গলসূত্র খুলতে নিষেধ করা হয়। রাধিকার বিয়েও এক বছর হয়নি, এবং সম্ভবত সে কারণেই তিনি মঙ্গলসূত্রটি পরিধান করছেন। তবে, তিনি এটি গলায় না পরে একটি ব্রেসলেট হিসেবে পরেছেন, যা তার আধুনিক ফ্যাশনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বর্তমানে, বিশেষ করে শহরের যুবতী মহিলারা শখের বশে বা ফ্যাশন হিসেবে মঙ্গলসূত্র পরেন। একদিকে, এটি ভারতীয় ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদিকে আধুনিক ফ্যাশনের সাথে মানানসই হতে সাহায্য করে। রাধিকার মতো, যেকোনো মহিলা চাইলে মঙ্গলসূত্র ব্রেসলেটের এই নতুন ধরনটি পরতে পারেন।
বাজারে মঙ্গলসূত্র ব্রেসলেট
এখন বাজারে রেডিমেড মঙ্গলসূত্র ব্রেসলেটও পাওয়া যাচ্ছে, যা বিভিন্ন ডিজাইন ও উপকরণে তৈরি। কেউ কেউ সোনার পুঁতি দিয়ে ব্রেসলেট তৈরি করেন, আবার কেউ হিরের লকেট ব্যবহার করেন। মঙ্গলসূত্র ব্রেসলেটের একটি জনপ্রিয় ডিজাইন হলো, এর উপর মিনা কাজ করা লকেট বা সোনার ওপর হিরের ছোট লকেট। এছাড়াও, কিছু ব্রেসলেটে নামের আদ্যক্ষর বা বিশেষ কিছু অক্ষরও যুক্ত করা থাকে, যা সেটিকে আরও ব্যক্তিগত এবং বিশেষ করে তোলে।
রাধিকার মঙ্গলসূত্র ব্রেসলেটে একটি সোনার ও হিরের তৈরি ইংরেজি ‘আর’ অক্ষর যুক্ত ছিল, যা তার ব্যক্তিগত টাচ যোগ করেছে।
দাম এবং জনপ্রিয়তা
মঙ্গলসূত্র ব্রেসলেটের দাম সাধারণত ১০ হাজার টাকার কাছাকাছি শুরু হয়, তবে সোনার পরিমাণ এবং ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে দাম বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টিকেও মঙ্গলসূত্র ব্রেসলেট পরতে দেখা গেছে, যা এই ফ্যাশন স্টেটমেন্টের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে, বলিউডের তারকা মহিলারা বিশেষ করে মঙ্গলসূত্র ব্রেসলেট পরিধান করছেন, কারণ এটি আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে খুব সহজেই মানিয়ে যায়। গলায় মঙ্গলসূত্র পরার তুলনায় এই ব্রেসলেট আরও সাচ্ছন্দ্যে পরা যায় এবং নানা ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানানসই হয়।
এটি স্পষ্ট যে, রাধিকা মার্চেন্টের নতুন ফ্যাশন স্টাইল মঙ্গলসূত্রের ঐতিহ্যকে সমর্থন করে, কিন্তু সেই সঙ্গে তা আধুনিক ও স্টাইলিশভাবে উপস্থাপন করেছে। তার এই নতুন স্টাইল মঙ্গলসূত্রের ধারণাকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে এবং ভারতীয় ফ্যাশন শপে এর চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে।