Friday, April 4, 2025

রাজ্যজুড়ে রামনবমী উৎসব, শুভেন্দুর নজর ভবানীপুরের দিকে!

Share

রাজ্যজুড়ে রামনবমী উৎসব!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ময়দান আবার সরগরম! সামনে রামনবমী, আর সেই উৎসবকে ঘিরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রতিটি জেলায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। আগামী ৫ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি একাধিক জেলায় ঘুরে রামনবমীর কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তবে কোথায়, কখন যাবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি নিজেই।

তবে এই সফরের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে ভবানীপুর! এই কেন্দ্রটি যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়, সে কথা সবারই জানা। বিজেপি শিবিরে জল্পনা, ভবানীপুরে গিয়ে শুভেন্দু রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছেন।

রামনবমীর আমন্ত্রণে সাড়া দিতেই ব্যস্ত শুভেন্দু

সদ্যসমাপ্ত বাজেট অধিবেশনের সময় বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বিধানসভায় শুভেন্দুর ঘরে এসেছিলেন। সেখানেই দু’জনের মধ্যে কথা হয় রামনবমী নিয়ে। দিলীপ জানান, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রামনবমীর আমন্ত্রণ আসছে ঢল নেমে! শুভেন্দু নিজেও জানিয়েছেন, এত আমন্ত্রণ এসেছে যে কোথায় যাবেন, আর কোথায় যাবেন না, তা ঠিক করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজেপির সূত্র অনুযায়ী, শুভেন্দু চেষ্টা করছেন রাজ্যের প্রতিটি জেলা স্পর্শ করার। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, পাহাড় থেকে সুন্দরবন—সর্বত্র তিনি রামনবমীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে চান। তবে তিনি কবে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ হয়নি।

শুভেন্দুর কৌশল: হিন্দুত্বের আবহ তৈরি?

শুধু ধর্মীয় উৎসব বলেই নয়, শুভেন্দুর এই কর্মসূচির পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও রয়েছে। তিনি যে কট্টর হিন্দুত্বের ইস্যু নিয়ে এগোতে চান, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। তার এই উদ্যোগকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই বছর রামনবমীর মঞ্চকেই তিনি ব্যবহার করতে চাইছেন বাংলার রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ানোর জন্য। যদিও এ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, তবে বিজেপির একাধিক নেতা মনে করছেন, শুভেন্দু ধীরে ধীরে রাজ্যে হিন্দুত্বের আবহ আরও জোরালো করতে চাইছেন।

ভবানীপুরই ‘পাখির চোখ’!

বিজেপির মধ্যে আলোচনা চলছে, শুভেন্দুর আসল পরিকল্পনা ভবানীপুরকে কেন্দ্র করেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র হওয়ায়, ভবানীপুরে রামনবমীর আয়োজন বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দেবে।

শুভেন্দু নিজেও ভবানীপুরে সংগঠন শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছেন। ফেব্রুয়ারিতে তিনি নিজাম প্যালেসে ভবানীপুরের বিজেপি কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই তিনি জানান, ভবানীপুরে তার কার্যকলাপ বাড়াতে চান। এরপর দোলের আগের দিনও তিনি ভবানীপুরে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এখন রামনবমীর সময়েও তিনি ভবানীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এবং ইতিমধ্যেই স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের উৎসব আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।

শুভেন্দুর নিজস্ব কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও বড় আয়োজন

শুধু ভবানীপুরই নয়, নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও বিশাল আয়োজনে রামনবমী পালন করতে চলেছেন শুভেন্দু। পাশাপাশি, রাজ্যের অন্যান্য জেলা ও শহরেও তিনি ছড়িয়ে পড়তে চাইছেন। ইতোমধ্যেই তিনি বিভিন্ন জায়গায় তার উপস্থিতির বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছেন।

বিজেপির এক নেতা বলেন, “শুভেন্দু দাদার কাছে এত আমন্ত্রণ এসেছে যে তিনি সব জায়গায় যেতে পারবেন কিনা, তা নিয়েই সন্দেহ রয়েছে। তবে আমরা সবাই তার নির্দেশ মেনে আমাদের নিজ নিজ এলাকায় রামনবমী পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’’

শেষ কথা

রামনবমীকে ঘিরে শুভেন্দুর রাজ্যব্যাপী প্রচেষ্টা নিছক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বড়সড় রাজনৈতিক কৌশল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রাম—শুভেন্দুর এই সফর তাকে রাজনৈতিকভাবে কতটা লাভবান করবে, তা সময়ই বলবে। তবে এক বিষয় স্পষ্ট—২০২৫-র বাংলার রাজনীতিতে রামনবমী শুধুই ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চ!

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পের তাণ্ডব! সুনামির আশঙ্কা

Read more

Local News