রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী বিভা সেনগুপ্ত প্রয়াত, ৯৪ বছর বয়সে থামল ‘কণ্ঠ হতে গান’

রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী বিভা সেনগুপ্ত! প্রয়াত হলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী বিভা সেনগুপ্ত। মঙ্গলবার সকাল ৭টা নাগাদ শহরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। বেশ কিছু দিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায়…

October 6, 2026
1 min read

রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী বিভা সেনগুপ্ত!

প্রয়াত হলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী বিভা সেনগুপ্ত। মঙ্গলবার সকাল ৭টা নাগাদ শহরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। বেশ কিছু দিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন শিল্পী। তাঁর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেছেন সঙ্গীতশিল্পী শ্রাবণী সেন।

বিভার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শ্রাবণী বলেন, ‘‘উনি এমনিতে সুস্থ-সবলই ছিলেন। মাঝেমাঝে শুনতাম, রক্ত দিতে হয়। সম্ভবত হিমোগ্লোবিন কম ছিল।’’ দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের শেষে তাঁর চলে যাওয়ার খবরে শোক নেমেছে রবীন্দ্রসঙ্গীতের জগতে।

১৯৫৯ সালে কলকাতায় আসেন ত্রিপুরার মেয়ে বিভা। এখানে মায়া সেনের কাছে দীর্ঘ দিন রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখেন। পরে মায়াই তাঁকে নিয়ে যান দেবব্রত বিশ্বাসের কাছে। বিভার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন দেবব্রত। সেই সূত্রেই শুরু হয় তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সঙ্গীতসাধনা এবং শিক্ষার সম্পর্ক।

ষাট ও সত্তরের দশকে বিভা নিয়মিত গান করলেও সমসাময়িক অনেক খ্যাতনামা শিল্পীর মতো তিনি কখনও প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন না। সুচিত্রা মিত্র, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীলিমা সেনদের মতো শিল্পীরা যখন রবীন্দ্রসঙ্গীতের জগতে শীর্ষে, বিভা তখন অনেকটাই আড়ালে থেকে নিজের মতো করে গান করে গিয়েছেন।

তবে জীবনের শেষ দশ-বারো বছরে নতুন করে তাঁকে চিনতে শুরু করেন শ্রোতারা। সঙ্গীতশিল্পী অলক রায়চৌধুরী জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর ‘লোকভারতী’র পক্ষ থেকে তাঁর বাড়িতে গিয়ে বিভাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। তখনও তাঁকে যথেষ্ট স্বতঃস্ফূর্ত দেখেছিল বলে জানান তিনি।

অলকের কথায়, খ্যাতি বা প্রচার নিয়ে বিভার কোনও বিশেষ আগ্রহ ছিল না। বরং মন দিয়ে গান শেখানো এবং ছাত্রছাত্রী তৈরি করাই ছিল তাঁর জীবনের বড় অংশ। প্রতি বছর নিষ্ঠার সঙ্গে গুরু দেবব্রত বিশ্বাসের জন্মদিনও পালন করতেন তিনি।

শিল্পীর গায়কিতে দেবব্রত বিশ্বাসের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। খোলা গলা, পরিষ্কার উচ্চারণ এবং গানের কথাকে শ্রোতার কাছে জীবন্ত করে তোলার এক বিশেষ ক্ষমতা ছিল তাঁর। সঙ্গীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যের কথায়, ‘‘বিভাদি শেষ বয়সেও নিখুঁত গান গেয়েছেন। কোথাও এতটুকু কম পড়ত না কিছু।’’

শ্রীকান্তের সঙ্গে বিভার সম্পর্কও ছিল গভীর স্নেহ ও সম্মানের। কারও গান পছন্দ হলে নিজেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন শিল্পী। বয়সে ছোট শিল্পীদেরও আন্তরিক সম্মান দিতেন। তাঁর সহজ ব্যবহার এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কথাও স্মরণ করেছেন শ্রীকান্ত।

সঙ্গীতশিল্পী মনোময় ভট্টাচার্যের কাছেও বিভা ছিলেন মায়ের মতো। তাঁর কথায়, ‘‘যখনই দেখা হয়েছে, মায়ের মতোই আদর, ভালবাসা দিয়েছেন।’’

জীবনের শেষ দিকে চোখের সমস্যা ও শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাও এসেছিল। তবু গান থেকে নিজেকে কখনও সরিয়ে নেননি বিভা। রবীন্দ্রসঙ্গীতের জগতে তাঁর কণ্ঠে যে স্বতন্ত্র কথনভঙ্গি ও দেবব্রত-প্রভাবিত গায়কির ধারা তৈরি হয়েছিল, তাঁর প্রয়াণে সেই জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ই যেন শেষ হল।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *