মেঘালয় না যাওয়ার রাগেই ঝগড়া, তারপর স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ! বেলেঘাটায় চাঞ্চল্য

মেঘালয় না যাওয়ার রাগেই ঝগড়া! বাড়িতে টাকা নেই, তাই বাতিল হয়ে গেল মেঘালয় যাওয়ার পরিকল্পনা। এই ‘অনাড়ম্বর’ সিদ্ধান্ত ঘিরেই বুধবার সকালটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এক দম্পতির মধ্যে। আর সেই ঝগড়ার…

August 8, 2025
0 min read

মেঘালয় না যাওয়ার রাগেই ঝগড়া!

বাড়িতে টাকা নেই, তাই বাতিল হয়ে গেল মেঘালয় যাওয়ার পরিকল্পনা। এই ‘অনাড়ম্বর’ সিদ্ধান্ত ঘিরেই বুধবার সকালটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এক দম্পতির মধ্যে। আর সেই ঝগড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হল স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায়।

কী ঘটেছিল?

মৃত বধূর নাম শ্বেতা প্রসাদ সাউ, বয়স মাত্র ২৯। পরিবারের দাবি, মেঘালয় ঘুরতে যাওয়ার জন্য অনেক দিন ধরেই পরিকল্পনা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে টাকার টানাটানিতে তা বাতিল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে স্বামী রোহিতকুমার সাউয়ের সঙ্গে তুমুল বচসা হয় শ্বেতার। এরপরেই বুধবার দুপুরে, নিজের ঘরেই শ্বেতার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান রোহিত।

রোহিত জানিয়েছেন, সকাল ৭টার সময় তিনি নিজের দোকানে যান। দুপুরে ১১টার সময় বাড়িতে খেতে এসে স্ত্রীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তারপর রেগে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন শ্বেতা। অনেক ডাকাডাকি সত্ত্বেও সাড়া না মেলায় দরজা ভেঙে তাঁকে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় নীলরতন সরকার হাসপাতালে, যেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুরনো কলহে জমে থাকা ক্ষোভ?

শ্বেতা ও রোহিতের বিয়ে হয়েছিল ২০১৫ সালে। তাঁদের দুটি মেয়ে সন্তানও রয়েছে। তবে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরেই তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে মাঝেমধ্যে শ্বেতাকে মানসিক ভাবে নিপীড়নেরও শিকার হতে হতো।

মৃতার বাবার অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি জানান, শ্বেতার কোনও পুত্রসন্তান না হওয়ায় তাঁর উপর ‘অত্যাচার’ চালানো হতো শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে। এমনকি মানসিক চাপে ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বহুবার। তাঁরা এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা নয়, বরং ‘খুন’ বলে দাবি করছেন।

পুলিশের অবস্থান

ঘটনার পর নারকেলডাঙা থানার পুলিশ এসে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনও লিখিত অভিযোগ পায়নি, তবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানায়, শ্বেতার মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী কী কারণ ছিল, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পারিবারিক বয়ানের ভিত্তিতে জানার চেষ্টা চলছে।

সমাজকে কী বার্তা দিচ্ছে এই ঘটনা?

একটি বাতিল হয়ে যাওয়া ভ্রমণই কি আত্মহত্যার কারণ? নাকি সেই ঘটনার আড়ালে দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন, হতাশা ও অবসাদের ইতিহাস ছিল?
শ্বেতার মৃত্যু সেই প্রশ্নই তীব্রভাবে সামনে এনে দিল। শুধু আর্থিক টানাটানির জন্য নয়, অনেক সময় সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেলে তার অভিঘাত এমন ভয়াবহ হতে পারে।

এই ঘটনার তদন্ত যেমন চলবে, তেমনই আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের স্থিতি নিয়েও ভাবনার সময় এসেছে। শুধুই দাম্পত্য নয়—একটি জীবন চলে যাওয়া আমাদের সবাইকেই প্রশ্ন করে: আমরা কি যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছি আশপাশের মানুষের মানসিক পরিস্থিতির প্রতি?

মায়ের কঠোর আদেশ থেকে শুরু করে ছোট ছোট টাস্ক, কন্যা পলককে বড় করতে যা করেছেন শ্বেতা তিওয়ারি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *