মৃত্যুর চার দিন আগে শেষ বক্তৃতা, নানা পটেকর বলেছিলেন, ‘আগামিকাল আমিও এই দুনিয়ায় থাকব কি না জানি না’

মৃত্যুর চার দিন আগে শেষ বক্তৃতা, নানা পটেকর বলেছিলেন! মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জীবন, কাজ এবং সমাজের প্রতি মানুষের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছিলেন নানা পটেকর। রবিবার গোয়ার…

October 8, 2026
0 min read

মৃত্যুর চার দিন আগে শেষ বক্তৃতা, নানা পটেকর বলেছিলেন!

মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জীবন, কাজ এবং সমাজের প্রতি মানুষের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেছিলেন নানা পটেকর। রবিবার গোয়ার ডোনা পাওলার একটি থিয়েটার ক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ৭৫ বছর বয়সি অভিনেতা বলেছিলেন, “আমাদের সবাইকে এক দিন চলে যেতে হবে। আমি জানি না, আগামিকাল আমিও এই দুনিয়ায় থাকব কি না।”

বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার বাড়িতে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নানা পটেকরকে। তার চার দিন আগে অবশ্য তাঁকে স্বাভাবিক ভাবেই অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল। মরাঠী থিয়েটারের জগৎ থেকেই অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন নানা। তাই নতুন থিয়েটার ক্লাবের উদ্বোধনে এসে প্রথমেই মঞ্চ এবং অভিনয়ের প্রতি নিজের ভালবাসার কথা বলেন তিনি।

অভিনেতার কথায় উঠে আসে মরাঠী নাট্যব্যক্তিত্ব ড. লাগু তেন্ডুলকরের প্রসঙ্গও। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে তাঁর নাটক দেখার অভিজ্ঞতা স্মরণ করেন নানা। নতুন থিয়েটার ক্লাবের সদস্যদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ ছিল, “এই পেশায় সবসময় নতুন কিছুর সন্ধান করবে। দর্শক সবসময় নতুন জিনিস পছন্দ করেন। নিজের নীতি বদলাবে না।”

এর পরেই থিয়েটার থেকে জীবনের দর্শনে চলে যান নানা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মানুষ যা করতে চেয়েছিল, জীবনে তা কতটা করতে পেরেছে? নিজের দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালন করেছে কি না? শুধু পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে থাকা নয়, সমাজ ও দেশের জন্যও কিছু করা প্রয়োজন বলে মনে করতেন তিনি।

নানা বলেন, “আমাদের সবাইকে এক দিন চলে যেতে হবে। আমারও সেই চূড়ান্ত পরিণতি আসবে। কিন্তু তার আগে আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে, আমরা যা করতে চেয়েছিলাম, তা করতে পেরেছি কি না। যতটা চেষ্টা করার দরকার ছিল, সৎ ভাবে ততটা চেষ্টা করেছি কি না।”

সেই বক্তৃতায় প্রতিবাদের ভাষা নিয়েও কথা বলেন অভিনেতা। তাঁর মতে, কোনও কিছু পছন্দ না হলে বিরোধিতা করা বা ভুলের বিরুদ্ধে সরব হওয়াই প্রতিবাদ। তবে সময়ের সঙ্গে প্রতিবাদের ধরনও বদলানো প্রয়োজন। প্রতিবাদ যেন কখনও অবমাননায় পরিণত না হয়, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রসঙ্গও তোলেন নানা। তিনি বলেন, মোদীর কিছু ভাবনা তাঁর ভাল লাগে, আবার কিছু ভাল লাগে না। তবে ভাল লাগা বা না লাগা—দুই কথাই অকপটে বলার মানসিকতা থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্য ছিল, “তিনি তো সবসময় সবকিছু ভুল করেন না।”

চার দিন পরেই নানা পটেকরের মৃত্যুর খবর সামনে আসায় সেই বক্তৃতার কথাগুলি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে অনুষ্ঠানটির বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর পরবর্তী মৃত্যুর কোনও সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, এমন দাবি করার কারণ নেই। বক্তৃতায় মূলত জীবন, অভিনয়, প্রতিবাদ এবং সমাজের প্রতি মানুষের দায়িত্ব নিয়েই কথা বলেছিলেন অভিনেতা।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *