মায়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্প!
ভূমিকম্প যেন এক মুহূর্তেই তছনছ করে দিল মায়ানমারকে। শুক্রবার ভয়াবহ ৭.৭ মাত্রার কম্পনে কেঁপে ওঠে দেশটি। পরপর একাধিক আফটারশক আরও বড়সড় ক্ষতি ডেকে আনে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রবিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১,৭০০ ছাড়িয়েছে, আহতের সংখ্যা অগণিত। চারদিকে শুধুই কান্নার সুর, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের আর্তনাদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই পরিস্থিতিকে ‘উচ্চ মাত্রার জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করেছে এবং জরুরি ভিত্তিতে ৮০ লাখ ডলারের আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
ত্রাণের আশায় অপেক্ষার প্রহর
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মানুষের জন্য বিভিন্ন দেশ এগিয়ে এলেও, সবচেয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও, তিন দিন পার হয়ে গেলেও মায়ানমারে এখনো কোনো মার্কিন সাহায্যকারী দল পৌঁছায়নি। টাকা বা ত্রাণ—কোনোটাই আসেনি।
অন্যদিকে, ভারত, চিন, মালয়েশিয়া, রাশিয়া ও থাইল্যান্ড ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারী দল, ওষুধ এবং খাবার পাঠিয়েছে। ভারত থেকে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিমান পৌঁছে গেছে ইয়াঙ্গনে। চিন আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের (প্রায় ১২০ কোটি টাকা) সাহায্য ঘোষণা করেছে এবং ১২৬ জনের উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে, যাদের সঙ্গে রয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী কুকুর।
ট্রাম্প প্রশাসনের ধীরগতি কেন?
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা থেকে এখন আন্তর্জাতিক সাহায্য মূল্যায়নকারী দল মায়ানমারে পৌঁছাতে বুধবার পর্যন্ত লেগে যাবে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিল কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে বিভিন্ন দেশে মার্কিন সহায়তা পৌঁছানো ধীরগতিতে হচ্ছে বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মায়ানমারও সেই একই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ হতে পারে
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা (US Geological Survey) জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন, যাদের বাঁচানোর জন্য প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমস্যাটা এখানেই। বহু এলাকা এখনো উদ্ধারকর্মীদের নাগালের বাইরে, খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব প্রকট হয়ে উঠছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, যদি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জরুরি ত্রাণ না পৌঁছায়, তবে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
মানবিক বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে মায়ানমার
একটা ভয়াবহ ধাক্কা এক নিমেষেই দেশটির চেহারা বদলে দিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন, ক্ষুধার্ত ও আতঙ্কিত। যারা বেঁচে আছেন, তারা যেন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন প্রতিদিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন আমেরিকার নীরবতা আশ্চর্যজনক।
এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য মায়ানমারকে দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো কত দ্রুত এগিয়ে আসে আর কতটা কার্যকর ভূমিকা নেয়। নইলে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে, আর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের শেষ চিৎকারও থেমে যাবে একসময়।
প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পের তাণ্ডব! সুনামির আশঙ্কা