মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডে এনডিএ
২০২৪ সালের নির্বাচনী মৌসুমে মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডে এনডিএ এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মধ্যে রাজনৈতিক চিত্র পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, ঝাড়খণ্ড বিধানসভার ৮১টি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ও ২০ নভেম্বর, এবং মহারাষ্ট্রের ২৮৮ আসনের জন্য এককভাবে ২০ নভেম্বর ভোট নেওয়া হবে। এই নির্বাচনের সঙ্গে সাথে রাহুল গান্ধীর ছেড়ে দেওয়া কেরলের ওয়েনাড় লোকসভা কেন্দ্র এবং পশ্চিমবঙ্গের ছ’টি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনেরও তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সব নির্বাচনের ফলাফল গণনা করা হবে ২৩ নভেম্বর।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মহারাষ্ট্রের রাজনীতির গতিপথ গত বছর থেকে অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা এবং উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের এনসিপি, বিজেপির সহযোগী হিসেবে সরকার পরিচালনা করছে। অপরদিকে, ঝাড়খণ্ডে হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম), কংগ্রেস, আরজেডি ও বামেদের নিয়ে গঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোট ক্ষমতায় আছে।
বিগত নির্বাচনে, মহারাষ্ট্রে এনডিএ জোট ৪৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে মাত্র ১৭টি আসন লাভ করেছে, যেখানে বিজেপি ৯টি, শিন্ডেসেনা ৭টি এবং এনসিপির অজিত গোষ্ঠী ১টি আসন জিতেছে। এই ফলাফল এনডিএ-র জন্য একটি বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) এবং শরদ পওয়ারের এনসিপি (এসপি)-র ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’ জোট ৩০টি আসন পেয়ে এগিয়ে যায়।

নির্বাচনী কৌশল
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন যে, ২০২৪ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দলগুলো তাদের শক্তি একত্রিত করার চেষ্টা করছে। মহারাষ্ট্রের গত বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’ বিজেপি ও শিন্ডেসেনা জোটকে পরাজিত করেছিল, যা তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। তাই, এনডিএ তাদের ভাঙন ঠেকাতে এবং বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে নানা কৌশল গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে, ঝাড়খণ্ডে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানকার মানুষ কংগ্রেস এবং জেএমএমকে সমর্থন করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ঝাড়খণ্ডের নির্বাচন ফলাফল আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ভোটার সংখ্যা ও বুথের বিবরণ
মহারাষ্ট্রে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ৬৩ লক্ষ, যেখানে বুথের সংখ্যা ১,১৮৬। ঝাড়খণ্ডে ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ৬০ লক্ষ, এবং বুথের সংখ্যা ২৯,৫৬২। মহারাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৫টি আসন, ঝাড়খণ্ডে তা ৪১টি।

পূর্ববর্তী নির্বাচনের প্রভাব
২০১৯-এর বিধানসভা নির্বাচনে শিবসেনা এবং বিজেপি জোট সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেলেও মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এনসিপির বিদ্রোহী নেতা অজিত পওয়ারের সমর্থন পেয়ে বিজেপির দেবেন্দ্র ফডণবীস মুখ্যমন্ত্রী হন। কিন্তু অজিতের এই পদক্ষেপের ফলে এনসিপি দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়।
২০২২ সালের জুনে শিন্ডে বিজেপির সঙ্গে জোট গড়ে ক্ষমতা দখল করেন। এরপর থেকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নানা পরিবর্তন ঘটেছে। আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।
উপসংহার
এবারের মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র দুই রাজনৈতিক জোটের মধ্যে লড়াই নয়, বরং এটি আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতির আঙিনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ২৩ নভেম্বর গণনার দিন এই দুই রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বড় রূপরেখা তৈরি হতে পারে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।