মহমেডানে নতুন জল্পনা, ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ ছাড়লেন কামারউদ্দিন!
মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবে ফের প্রশাসনিক অস্থিরতার ইঙ্গিত। ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিলেন কামারউদ্দিন। রবিবার দুপুরে সভাপতি এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়ে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে কেন এই পদক্ষেপ, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।
কামারউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই মহমেডানের সঙ্গে যুক্ত। নিজের পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০০১ সালের ৬ মার্চ থেকে বিভিন্ন দায়িত্বে ক্লাবের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সবসময় মহমেডানের ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং মর্যাদা রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
তাঁর আকস্মিক ইস্তফা ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে ক্লাবমহলে। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও কারণ সামনে আসেনি, অনেকেই সাম্প্রতিক ঘটনাবলির সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের যোগ খুঁজছেন। কিছুদিন আগেই মহমেডান সমর্থকদের একাংশ ক্লাবের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ক্লাবের আর্থিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট সমর্থকেরা বিক্ষোভও দেখান। সেই বিক্ষোভে কামারউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিও উঠেছিল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সমর্থকদের সমালোচনার মুখে থাকা আর এক কর্তা আমিরুদ্দিন ববি ইতিমধ্যেই নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর জায়গায় সম্প্রতি মহমেডানের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ফলে প্রশ্ন উঠছে, সমর্থকদের চাপ এবং ক্লাবের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণেই কি কামারউদ্দিন এই সিদ্ধান্ত নিলেন? যদিও এ বিষয়ে কোনও পক্ষই এখনও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি।
রবিবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থান বা ইস্তফার প্রকৃত কারণ এখনও অজানাই রয়ে গিয়েছে।
এর মধ্যেই সোমবার মহমেডান তাঁবুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দিয়েছেন সভাপতি হুমায়ুন কবীর। সেখানে ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ক্লাবের বকেয়া সংক্রান্ত বিষয়েও ইতিবাচক খবর দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৬ জুন হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, মহমেডানের সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে ক্লাবের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং ঐতিহ্য রক্ষার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হবে। তাঁর কথায়, “আমাদের হাতে কোনও জাদুর কাঠি নেই। কিন্তু ধীরে ধীরে সমস্যাগুলির সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
কামারউদ্দিনের ইস্তফার ফলে মহমেডানের প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, সোমবারের বৈঠকে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয় এবং ভবিষ্যতের রূপরেখা কীভাবে সামনে আনে। সমর্থকদেরও নজর থাকবে সেই দিকেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?