Friday, April 4, 2025

মস্তিষ্কে ‘পচন’ ধরছে? এই ৫ অভ্যাস বদলালেই মিলবে মুক্তি!

Share

মস্তিষ্কে ‘পচন’ ধরছে?

কখনও কি মনে হয় বুদ্ধির ধার কমে যাচ্ছে? কাজ করতে গিয়েও ঠিকমতো মনোসংযোগ করতে পারছেন না? চিন্তাশক্তি যেন আটকে যাচ্ছে এক জায়গায়! এমন অনুভূতি অনেকেরই হয়। আধুনিক জীবনে এ ধরনের মানসিক স্থবিরতার জন্য একটি নতুন শব্দ জনপ্রিয় হয়েছে— ‘ব্রেইন রট’। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর অস্তিত্ব নেই, তবে ২০২৪ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস একে ‘ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার’ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

‘ব্রেইন রট’ বলতে কী বোঝায়?

ব্রেইন রট বলতে বোঝায়— অতিরিক্ত সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অপ্রয়োজনীয় তথ্যের মধ্যে ডুবে থাকার ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সহজলভ্য বিনোদন গ্রহণ, এবং মস্তিষ্ককে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে না ফেলা— এসব কারণে চিন্তাশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। এতে মনোযোগের অভাব, সৃষ্টিশীলতার ঘাটতি, এবং দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তির অবনতি ঘটে।

‘ব্রেইন রট’-এর লক্ষণ

যাঁরা এই সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের মধ্যে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা যায়—

মনোসংযোগের সমস্যা – দীর্ঘসময় ধরে কোনও বিষয়ে মনঃসংযোগ ধরে রাখতে না পারা।

স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া – আগের মতো বিষয় মনে রাখতে না পারা।

মানসিক ক্লান্তি বৃদ্ধি – কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হওয়া।

সৃষ্টিশীলতার অভাব – নতুন চিন্তা বা আইডিয়া বের করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়া।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অবস্থা যদি দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে হলে আমাদের কিছু অভ্যাস বদলানো প্রয়োজন।


কীভাবে মুক্তি মিলবে?

চিন্তা করবেন না! ৫টি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব—

১️⃣ স্ক্রিন টাইম কমান

টানা মোবাইল বা টিভির পর্দায় তাকিয়ে থাকা মস্তিষ্ককে ধীর করে তোলে। এটি শুধু সময়ের অপচয়ই করে না, বরং মানসিক শক্তি কমিয়ে দেয়। তাই—

✔ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনমূলক ভিডিও দেখার সময় দিনে ২-৩ ঘণ্টার বেশি নয়
✔ বিনোদনের বিকল্প হিসেবে বই পড়া, শারীরিক অনুশীলন, বা নতুন কিছু শেখার অভ্যাস করুন

2️⃣ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখুন

মস্তিষ্ককে চ্যালেঞ্জের মুখে না ফেললে তা ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তাই—

পাজল বা দাবার মতো গেম খেলুন
নতুন কিছু শিখুন— যেমন একটি নতুন ভাষা, যন্ত্র বাজানো, বা চিত্রাঙ্কন।
বই পড়ুন, বিশেষত জটিল ও বুদ্ধিবৃত্তিক বই, যা আপনার চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করবে।

3️⃣ নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে শরীরচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যায়ামের ফলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, যা মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। তাই—

✔ প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন
✔ যোগব্যায়াম ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামও কার্যকর হতে পারে।

4️⃣ মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাবার খান

সঠিক খাবার না খেলে মস্তিষ্কের কোষ দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করতে

শাকসবজি ও ফল খান— বিশেষত পালংশাক, ব্লুবেরি, কমলা ইত্যাদি।
বাদাম ও দানা শস্য— যা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সরবরাহ করে।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার— যেমন মাছ ও চিয়া সিডস।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার— যা মস্তিষ্ককে স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে।

5️⃣ পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম নিন

মস্তিষ্ক সারাদিনের কাজের পরে বিশ্রামের প্রয়োজন অনুভব করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চিন্তাশক্তি দুর্বল হয়ে যায়, মনোযোগ কমে যায়, এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই—

রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান
ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল ও ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করুন
নিয়মিত ঘুমের সময় নির্ধারণ করুন, যাতে মস্তিষ্ক অভ্যস্ত হয়ে যায়।


শেষ কথা

‘ব্রেইন রট’ এড়ানো কঠিন কিছু নয়। শুধু সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললেই মস্তিষ্ক থাকবে সক্রিয়, সৃজনশীল, ও কর্মক্ষম। প্রযুক্তির প্রতি আসক্তি কমিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া— এই সহজ অভ্যাসগুলো আপনাকে সুস্থ রাখবে দীর্ঘদিন।

এখন থেকেই এসব অভ্যাস রপ্ত করুন, মস্তিষ্ককে দিন নতুন প্রাণ! 🧠✨

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পের তাণ্ডব! সুনামির আশঙ্কা

Read more

Local News