মধ্যবিত্ত শ্রেণি
ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের শিরদাঁড়া হিসেবে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত করার ক্ষেত্রে এই শ্রেণি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—কারা মধ্যবিত্ত? তাদের আয়ের পরিমাণ বা জীবনধারার মানদণ্ড কী?
মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংজ্ঞা ও আয়ের মানদণ্ড
বিশ্বব্যাঙ্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) জানায়, দৈনিক আয় যদি ২.১৫ ডলারের কম হয়, তবে সেই ব্যক্তি গরিব শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। যারা আড়াই ডলার থেকে ১০ ডলার আয় করেন, তাদের নিম্ন মধ্যবিত্ত বলা হয়। ভারতের নীতি আয়োগ মধ্যবিত্তের সংজ্ঞা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড নির্ধারণ করেনি। তবে তাদের হিসাবে, মাসিক আয় ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা হলে কেউ নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং ৪০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা আয় করা ব্যক্তিকে মধ্যবিত্ত বলা হয়। যারা মাসে এক লক্ষের বেশি আয় করেন, তারা উচ্চ মধ্যবিত্তের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ জানায়, দৈনিক আয় ১০ থেকে ৫০ ডলার হলে তাকে মধ্যবিত্ত ধরা যায়। আবার প্রাইস সংস্থার মতে, মাসিক আয় যদি ১.০৯ লক্ষ থেকে ৬.৪৬ লক্ষ টাকার মধ্যে হয়, তবে সেই ব্যক্তি মধ্যবিত্তের অন্তর্ভুক্ত।
সামাজিক ও পেশাগত বিভাগ
শুধু আর্থিক ভিত্তিতেই নয়, মধ্যবিত্ত শ্রেণি সামাজিক ও পেশাগত ভিত্তিতেও ভাগ করা হয়েছে।
- শিক্ষিত মধ্যবিত্ত: যাদের নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা এবং স্থায়ী চাকরি রয়েছে।
- ঐতিহ্যগত মধ্যবিত্ত: ছোট ব্যবসায়ী, কৃষক ও শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।
- উদীয়মান মধ্যবিত্ত: শহুরে প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ভোগ্যপণ্য কেনার প্রবণতা যাদের বেশি।
মধ্যবিত্তের পরিবর্তনশীল ভূমিকা
ভারতের মধ্যবিত্তরা বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত, যেমন—প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং ছোট ব্যবসা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই শ্রেণির পণ্য ক্রয়ের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। জেনারেশন জেড প্রযুক্তি গ্যাজেটের প্রতি আগ্রহী, আবার স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে খাদ্য খরচে পরিবর্তন ঘটছে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ
ভারতের মধ্যবিত্তরা একদিকে মুদ্রাস্ফীতির চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার ৬১ শতাংশ মধ্যবিত্ত হবে।
সরকারের পদক্ষেপ
মধ্যবিত্তদের করের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে সাম্প্রতিক বাজেটে আয়কর কাঠামো সরলীকরণ করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা মধ্যবিত্তদের আর্থিক সুরাহা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে।
ভারতের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রমবর্ধমান ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শ্রেণির আর্থিক ও সামাজিক শ্রীবৃদ্ধি দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।