মতুয়া ও উদ্বাস্তু হিন্দুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে কমিশনকে চাপ বিজেপির— দিল্লিতে শমীক–মালবীয়দের ছয় পাতার দাবি পত্র

মতুয়া ও উদ্বাস্তু হিন্দুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে কমিশনকে চাপ বিজেপির পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চললেও সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিএএ–র অধীনে মতুয়া ও অন্য হিন্দু…

November 26, 2025
0 min read

মতুয়া ও উদ্বাস্তু হিন্দুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে কমিশনকে চাপ বিজেপির

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চললেও সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিএএ–র অধীনে মতুয়া ও অন্য হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব সনদ প্রদান যথেষ্ট ধীরগতিতে চলছে— এই অভিযোগকে সামনে রেখেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনে সরাসরি হাজির হল বিজেপি–প্রতিনিধি দল।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় সহ–প্রভারী অমিত মালবীয়, সাংসদ জগন্নাথ সরকার, খগেন মুর্মু এবং দলের সমন্বয়কারী ওম পাঠক— মিলে পাঁচ সদস্যের একটি দল কমিশনকে ছয় পাতার বিস্তৃত চিঠি জমা দেন। তাতে রাজ্যে এসআইআরের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং উদ্বাস্তু হিন্দুদের সহায়তা— সব কিছুরই বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং একগুচ্ছ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।


❖ ‘পশ্চিমবঙ্গেই শুধুমাত্র নির্বাচন দফতর স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীন’— বিজেপির অভিযোগ

বিজেপি অভিযোগ করেছে,

  • দেশের অন্য কোনও রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সরাসরি স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীনে নয়।
  • কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই কাঠামো নির্বাচন কমিশনের স্বশাসন, নিরপেক্ষতা এবং স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করছে।
  • কমিশন বহুবার সতর্ক করেও রাজ্য সংশোধন আনেনি।

বিজেপির দাবি, এই অবস্থায় এসআইআর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া উচিত।


❖ মতুয়া ও হিন্দু উদ্বাস্তুদের নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে— দাবি কমিশনের কাছে

প্রতিনিধি দলের চিঠিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে—

  • এসআইআরের তুলনায় সিএএ–র কাজ অত্যন্ত ধীরগতির।
  • ফলে মতুয়া ও উদ্বাস্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
  • তারা বুঝে উঠতে পারছেন না কোন নথি প্রয়োজন, কোথায় যোগাযোগ করবেন।

তাই বিজেপির দাবি—

  1. নির্বাচন কমিশনকে এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে নামতে হবে,
  2. তাঁদের জন্য আলাদা করে জেলা ও ব্লক স্তরে তথ্য–সাহায্য কেন্দ্র খুলতে হবে,
  3. প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে তাঁদের বিভ্রান্তি দূর করতে হবে।

❖ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার— মৃত ভোটার শনাক্তকরণে বিশেষ জোর

বিজেপির মতে, রাজ্যের ভোটার তালিকায়—

  • মৃত ভোটারের নাম,
  • স্থানান্তরিত ভোটার,
  • একাধিক জায়গায় একই ভোটারের নাম,
  • ও ভুয়ো ভোটার

—এই সমস্যা ব্যাপক হারে রয়েছে।

এই কারণে তারা দাবি জানিয়েছে—

  • এআই ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো তালিকা স্ক্যান করা হোক
  • রাজ্যের জন্ম–মৃত্যু পোর্টালের তথ্য কমিশন সরাসরি দেখার অনুমতি পাক
  • ভোটার তালিকার সঙ্গে সেই তথ্য মিলিয়ে দেখা হোক
  • তবে প্রযুক্তি যাকে মৃত বলবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিএলও ও ইআরওকে现场 যাচাই বাধ্যতামূলক করা হোক

এ ছাড়া আধার তথ্যভান্ডারের সঙ্গে ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখার পরামর্শও দিয়েছে বিজেপি।


❖ নথি যাচাইয়ে কঠোরতা— মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা চাওয়া

বিজেপির অভিযোগ—

  • নথি যাচাই না করেই মাঠের আধিকারিকরা আবেদন গ্রহণ করছেন
  • রাজ্যে বিপুল পরিমাণ ভুয়ো নথি তৈরি হচ্ছে

তাই দাবি—

  • কোন নথি গ্রহণযোগ্য, কোন নথি নয়— স্পষ্ট তালিকা কমিশন প্রকাশ করুক
  • কোন তারিখের আগে তৈরি নথি গ্রহণযোগ্য হবে, সেটিও নির্দিষ্ট করা হোক
  • ইআরও/এএইআরও–দের অভিজ্ঞতা ও পদমর্যাদা বাড়ানো হোক

অনুপ্রবেশপ্রবণ জেলাগুলিতে বিএলওদের কাজ সহজ করতে ‘সাধারণ ভোটার’ কাকে বলে তা নির্দিষ্ট করার দাবি তোলা হয়েছে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *