ভারতে কি আদৌ দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬?
ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েক মাস, তবু ভারতে এখনো পর্যন্ত কোনও সম্প্রচার সংস্থা স্বত্ব কেনেনি। ফলে বড় প্রশ্ন উঠে গেছে—ভারতীয় দর্শকরা কি সত্যিই এবারের বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন?
📉 কেন কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না?
সবচেয়ে বড় কারণ ব্যবসায়িক লাভের অনিশ্চয়তা।
- ম্যাচের বেশিরভাগ সময় ভারতীয় সময় অনুযায়ী মধ্যরাত বা ভোরে
- ১২:৩০, ৩:৩০, ৫:৩০—এই সময়গুলোতে দর্শক কম
- বিজ্ঞাপনদাতাদের চাহিদাও অনেক কম
- ফলে টিভি/স্ট্রিমিং সংস্থার রেভিনিউ কমে যাওয়ার আশঙ্কা
এই কারণেই বড় সম্প্রচারকারী সংস্থা যেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
💰 ফিফার প্রস্তাব ও মূল্য কমানো
ফিফা প্রথমে ভারতের জন্য সম্প্রচার স্বত্বের দাম রেখেছিল প্রায় ₹৯৩৮ কোটি (২০২৬ ও ২০৩০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে)।
কিন্তু:
- কোনও সংস্থা রাজি হয়নি
- এরপর দাম কমিয়ে করা হয় ₹৩২৮ কোটি
- তাতেও ক্রেতা মেলেনি
- আরও কমে ₹২৩৪ কোটি হতে পারে বলে অনুমান
তবুও নিশ্চিত কিছু নয়।
📺 কেন সমস্যা আরও গভীর?
ভারতে এখন খেলা সম্প্রচারের বাজার মূলত দুই শক্তির হাতে:
- JioHotstar (স্ট্রিমিং/স্পোর্টস সম্প্রচার একীভূত শক্তি)
- Sony Pictures Networks India
বিকল্প কমে যাওয়ায় দর-কষাকষির ক্ষমতাও কমেছে। ফলে ফিফার জন্য পরিস্থিতি কঠিন।
🏏 ক্রিকেট বনাম ফুটবল—ভারতীয় বাস্তবতা
ভারতে ক্রিকেটের প্রভাব এত বেশি যে:
- আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে বিজ্ঞাপন বাজার বিশাল
- এক ম্যাচ থেকেই বড় আয় আসে
- ফুটবলে সেই “রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট” নিশ্চিত নয়
এটাই মূল ফারাক তৈরি করছে।
📡 শেষ ভরসা কি দূরদর্শন?
যদি কোনও বেসরকারি সংস্থা না নেয়, তাহলে সম্ভাবনা আছে:
- সরকারি সম্প্রচার সংস্থা Prasar Bharati (দূরদর্শন)-এর মাধ্যমে সম্প্রচার
আগেও কিছু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট তারা দেখিয়েছে। তবে সেটি হলে ফিফার জন্য তা হবে প্রেস্টিজ ইস্যুতে বড় ধাক্কা।
⚠️ তাহলে কি বিশ্বকাপ দেখা যাবে না?
এখনই বলা যাচ্ছে না যে দেখা যাবে না, তবে পরিস্থিতি হলো:
- দর-কষাকষি চলছে
- দাম কমানোর চেষ্টা চলছে
- শেষ মুহূর্তে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে
ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার এখনো অনিশ্চিত ব্যবসায়িক জটিলতায় আটকে। যদি দ্রুত চুক্তি না হয়, তবে প্রথমবারের মতো বড় প্রশ্ন উঠতে পারে—ভারতের দর্শকরা কি সত্যিই বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত থাকবেন?
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?